প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, প্রবীণদের সুরক্ষা, যত্ন ও মর্যাদা রক্ষা এখন সময়ের দাবি, আর এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সামাজিক কর্তব্য হিসেবে দেখা উচিত।
রবিবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজায় ‘বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বার্ধক্যে মানুষ নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব ও নানা শারীরিক-মানসিক সমস্যায় ভোগেন। সমাজের সম্মানিত এই জনগোষ্ঠী যেন জীবনের শেষ পর্যায়ে সুন্দরভাবে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান শ্রেণি ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এখনো পর্যন্ত প্রবীণদের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ নীতি বা কাঠামো তৈরি হয়নি। তবে সময় এসেছে প্রবীণবান্ধব নীতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলার। আধুনিক চিকিৎসা এখন ব্যয়বহুল, তাই প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির চিফ প্যাট্রোন ও ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সরকারের অধীনে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন জরুরি, যা দেশের বর্তমান প্রবীণ নীতি ও কাঠামো পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, “প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে, যেন তারা একাকিত্বে না ভোগেন। সমাজে তরুণ ও প্রবীণরা একসঙ্গে কাজ করলে নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রও সমৃদ্ধ হবে।”
১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে, যা প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন ভাবনা যোগ করে আসছে।