× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ

সময় পেছানো নিয়ে চাপে সরকার

আবু কাওসার

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫৫ এএম

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৫৯ পিএম

সময় পেছানো নিয়ে চাপে সরকার

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় পেছানো নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এই চাপ এসেছে দেশের ব্যবসায়ী মহল থেকে। তাদের যুক্তি হচ্ছে, উত্তরণের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার, তেমন পরিবেশ এখনও নিশ্চিত হয়নি। কাজেই এ মুহূর্তে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার কারণে রপ্তানিসহ নানা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে; যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। 

ব্যবসায়ীদের এমন আশঙ্কার পর এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি নিয়ে আবারও পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা হচ্ছে। সময় পেছানো কতটা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত তা নিয়ে এরই মধ্যে নানা মতামত দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত পূর্ব সময়সীমাই বহাল রয়েছে।  

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে বের হবে বাংলাদেশÑ এমন সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের। সে হিসাবে এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের সামনে সময় আছে মাত্র ১৪ মাস। এই সময়ে এসে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। 

সরকারি নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে নেই। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে জাতিসংঘ। তার আগে বাংলাদেশ সরকারকে আবেদন করতে হবে জাতিসংঘের কাছে। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসবে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে। নভেম্বরের শেষে অথবা ডিসেম্বরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশকে’ বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। শিগগির এ প্রতিবেদন জাতিসংঘে পাঠানো হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘সময় বাড়ানো হবে কি হবে না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় বাড়ানোর জন্য বেশকিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। এটি নির্ভর করছে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের ওপর। কাজেই বিষয়টি সহজ নয়। 

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রস্তুতির ব্ষিয়ে অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করবে এই প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ তার বর্তমান অবস্থান তুলে ধরবে। জাতিসংঘের সিডিপির প্রতিনিধিদল যদি মনে করে, সময় বাড়ানোর পক্ষে সরকারের প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক, তাহলে সুপারিশ করবে সিডিপি। 

সূত্র জানায়, সময় বাড়ানোর আগে তিনটি ধাপ বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। প্রথমত, সিডিপির সুপারিশ। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বা ইকোসকের সমর্থন এবং তৃতীয়ত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন।

যদি সিডিপি সবুজ সংকেত দেয় যে, সময় বাড়ানো যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সিডিপির সুপারিশ ইকোসক সমর্থন করবে এবং এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে পাস হতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় পেছাতে হলে বাংলাদেশকে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। 

এলডিসি উত্তরণে এরই মধ্যে বাংলাদেশ যেসব প্রস্ততি নিয়েছে; সে বিষয়ে ইআরডি প্রতিবেদন তৈরি করছে। এটি সম্পন্ন হলে শিগগির জাতিসংঘে পাঠানো হবে। এছাড়া জাতিসংঘের সিডিপি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মসৃণ উত্তরণ কৌশলপত্র (এসটিএস) উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে মূল্যায়ন শেষে সুপারিশ করবে সিডিপি। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সময় বাড়ানোর আবেদন করবে কি করবে নাÑ সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। 

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সময় পেছানোর পক্ষে জাতিসংঘের কাছে জোরালো যুক্তি তুলে ধরতে হবে। আট বছর সময় পাওয়ার পরও প্রস্তুত নয়, এই কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানো যাবে না।’ 

সম্প্রতি রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এখন অনেকেই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর কথা বলছেন। কিন্তু বিষয়টি শুধু সরকারের হাতে নেই। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ নিয়ে ভোটাভুটি হবে। সেখানে ১৯৩টি দেশের মধ্যে আমাদের অন্তত ৯৭টি দেশের সমর্থন (ভোট) লাগবে। এটা এত সহজ নয়। কারণ অন্য দেশগুলো আমাদের সুবিধার জন্য কেন ভোট দেবে? আমরা এলডিসির সর্বাধিক সুবিধা ভোগ করি। এ নিয়ে অন্য দেশগুলো আমাদের ঈর্ষা করে। তাই আমাদের বাস্তবধর্মী হতে হবে।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। সাধারণত ৬ বছরে এ প্রক্রিয়া শেষ হয়। কিন্তু কোভিডের কারণে বাংলাদেশসহ অন্য দেশকে আরও দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বর উত্তরণের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই উত্তরণ ঘটবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন সময় পেছাতে হলে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে, এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা অবশ্যই চাই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাক বাংলাদেশ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, উত্তরণের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার, তাতে যথেষ্ট ঘাটতি আছে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যে ধরনের সক্ষমতা দরকার তা নেই আমাদের। এ অবস্থায় উত্তরণ ঘটলে সুবিধার বদলে বিপদ হতে পারে। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে উত্তরণ কমপক্ষে আরও তিন বছর পিছিয়ে দিতে হবে।’

এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়বে রপ্তানি খাত। কারণ এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায়। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পর এসব সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। দুই বছর আগে করা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বছরে ৫৩৭ কোটি ডলার বা সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে। 

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা ও দেশ থেকে নমনীয় বা কম সুদে ঋণ পাচ্ছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলে এই সুবিধা আর থাকবে না। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মতো বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরি হয়নি এখনও। যে কারণে উত্তরণের সময় আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা