জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সাইফ বাবলু
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১০:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশে চলছে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রস্তুতি। এর অংশ হিসেবে আজ রবিবার শুরু হচ্ছে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ। সারা দেশে ১৩০টি ভেন্যুতে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত মাঠ পুলিশ সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ নেবেন। এর আগে তিন ধাপে ২২২০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারাও পুলিশ সদস্য। মূলত আওয়ামী লীগ আমলের সংসদ নির্বাচনের মতো যেন প্রশ্নবিদ্ধ হতে না হয়, সেজন্য এত আয়োজন। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণের সমন্বয়ক পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এইচআর) আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ গতকাল শনিবার বলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে মাঠ পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে আইন, বিধিবিধান, অস্ত্র ব্যবহার, বডিঅন ক্যামেরাসহ আরও নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এজন্য আমরা মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করেছি। তারা এখন মাঠ পুলিশকে প্রশিক্ষিত করবেন। আমরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে পুলিশের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ হয়নি। আগামী ১৫ জানুয়ারি সব ধরনের প্রশিক্ষণ শেষ করে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করব।
জানা গেছে, অতীতের ৩টি নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, জাল-জালিয়াতি, দিনের ভোট রাতে করা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে চরম বিতর্কিত হয়ে পড়ে পুলিশ বাহিনী। আগামী নির্বাচন সেই কলঙ্ক মোচনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। আজ শুরু হওয়া মাঠ পুলিশের প্রশিক্ষণকালে এ বিষয়টি বারবার স্মরণ করিয়ে দেবেন মাস্টার ট্রেইনাররা। নির্বাচনকালে কোনো দল বা গোষ্ঠীর হয়ে পুলিশ সদস্যরা যেন কাজ না করেন, সেজন্য সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হবে প্রশিক্ষণে। পক্ষালম্বন করলে কী পরিণতি হতে পারে, এ বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পুলিশকে নির্বাচনের পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী তিন ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের প্রথমদিন নীতিগত জ্ঞান ও আইনি কাঠামো, দ্বিতীয় দিন বাস্তব প্রস্তুতি ও ব্যবহারিক অনুশীলন এবং তৃতীয় দিন অস্ত্র এবং বডিঅন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ মডিউলকে বিভিন্ন সেশনে ভাগ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের শুরুতেই একটি ডকুফিল্ম প্রদর্শন ও মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপর নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি ও ভোটার অধিকার, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী পুলিশের দায়িত্ব, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ, আন্তঃসংস্থা বা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের কর্মপন্থা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নির্বাচন-পূর্ব দায়িত্ব হিসেবে পুলিশ মোতায়েনকালে বিবেচ্য বিষয়সমূহ ও করণীয়, ভোটকেন্দ্রে ফোর্স মোতায়েন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নির্বাচনকালে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে তার দিকনির্দেশনাও থাকবে প্রশিক্ষণে। এর মধ্যে নির্বাচনসামগ্রী, ভোটার, বুথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব; ভোটের দিন মোবাইল, স্ট্রাইকিং এবং রিজার্ভ ফোর্সের কর্মবণ্টন, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রক্রিয়া এবং দেশি ও বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচনসামগ্রী রিটার্নিং কর্মকর্তার/সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিরাপদে পৌঁছে দিতে পুলিশের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী ডিউটি পালনে করণীয় ও বর্জনীয়, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও গুজব নিরসন বা প্রতিরোধ ভূমিকা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন-সংক্রান্ত ঘটনা রিপোর্টিং পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে থাকবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীরা কোনো কিছু না বুঝলে মাস্টার ট্রেইনারদের কাছে জানতে চাইবেন প্রশ্নোত্তর পর্বে। এছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্ব সম্পর্কেও মাঠ পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা, জরুরি উদ্ধার এবং চিকিৎসা সহায়তা সেবা প্রদানে করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবেন মাঠ পুলিশের সদস্যরা। এ বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকবে।
এছাড়া ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের প্রকৃত চিত্র, পুলিশের কতটুকু দায়িত্ব, অপ্রত্যাশিত ঘটনায় করণীয়, রিপোর্টিং চ্যানেল ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।