দুদিন সময় চাইবে দলগুলো
দীপক দেব
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজ রবিবার ফের আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন। শুরুতে দলগুলোর পক্ষ থেকে একক নতুন কোনো প্রস্তাব বা পরামর্শ দেওয়া হবে কি না তা জানতে চাওয়া হবে। এর পরেই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের থেকে পাওয়া মতামত ও পরামর্শ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভিমত দলগুলোর সামনে তুলে ধরে মতামত চাওয়া হবে। তবে সনদ নিয়ে এখনও নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে না পারায় কমিশনে মতামত দেওয়ার জন্য আরও দুদিন সময় চাওয়া হবে দলগুলোর পক্ষ থেকে। এদিকে দলগুলো একমত হতে না পারলে ৯ অক্টোবরের আলোচনার পর সনদ বাস্তবায়নের একাধিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে সরকারের কাছে সনদ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশনের সর্বশেষ মুলতবি সভা থেকে সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো সমাধানের পথ বের করতে পেরেছে কি না তা জানতে চাওয়া হবে। যদি দলগুলোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না আসে তাহলে এই পর্যন্ত যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো তুলে ধরে মতামত চাওয়া হবে। কীভাবে এবং কোন কোন প্রস্তাব দলগুলোর কাছে তুলে ধরা হবে সেই বিষয় চূড়ান্ত করতে গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক সভায় সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। ১৫ অক্টোবর কমিশনের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জুলাই জাতীয় সনদের কাজ শেষ করতে চায় ঐকমত্য কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে পাওয়াÑ বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ, গণভোট, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ এর প্রস্তাবগুলোর পাশাপাশি বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার পরামর্শও উল্লেখ থাকবে। এদিকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ প্যানেল কমিশনকে সনদ বাস্তবায়নে দুটি প্যাকেজের পরামর্শ দেয়। প্রথম প্যাকেজ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে সনদ কার্যকর করা হবে। এরপর আদালতের কাছে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতামত নেওয়া হবে, কখন হতে পারে গণভোট। দ্বিতীয় প্যাকেজে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে গঠিত সংসদে সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত, তা গণপরিষদ বা সংবিধান সভার দায়িত্ব পালন করবে। সনদ অনুমোদনের পর গণপরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদে রূপান্তরিত হবে।
জানতে চাইলে কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. মো. আইয়ুব মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা প্রথমে দলগুলো থেকে জানতে চাইব তারা কোনো প্রস্তাবে একমত হতে পারল কি না। যদি না পারে তবে এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরে মতামত চাওয়া হবে।
এদিকে সংবিধান বদলের অধিকার কারও নেই মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এমনটা হলে দুই বছর বা পাঁচ বছর পরে বারবার এই প্রক্রিয়ায় আবার সংবিধান বদলের দাবি উঠবে। বৈঠকের আগের দিন বিএনপি নেতার এমন বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে ড. মো. আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে গণভোট বা গণপরিষদ ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে একাধিক অবস্থান রয়েছে। বিএনপি, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জোট, বিজেপি, এলডিপিসহ কয়েকটি দল চায় সাংবিধানিক সংস্কার হবে পরের সংসদে। এ ছাড়া বিএনপি গণভোট চাইলেও তা হতে হবে নির্বাচিত সংসদে সংস্কার অনুমোদনের পর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্তত সাতটি দল চায়, সংবিধানিক আদেশে নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের সব সংস্কার কার্যকর এবং গণভোটে তা অনুমোদন।
আরও ২ দিন সময় চাইবে দলগুলো
গণতন্ত্রমঞ্চের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ পর্যন্ত ১৪টি দল নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছে। আমরা আলোচনা পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। তবে সবাই একটা সমাধান চায়। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে শেষে বসা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আমরা ২ দিন সময় চাইব। আশা করি ৯ অক্টোবর কমিশনের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের আগে একটা জায়গায় আসতে পারব।