প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
প্রবা ফটো।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়, এরপর সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা—বিসর্জন করাই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে মানুষ একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে ষষ্ঠী তিথিতে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীসহ দেশব্যাপী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা চলেছে। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
সনাতন ধর্মের মতে, বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গা ফিরে যান স্বর্গলোকের কৈলাসে। পরের বছর শরতে তিনি আবার এই পৃথিবীতে আসেন। প্রতিমা বিসর্জনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঢাকায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়। সড়কে পুলিশের টহল, নদীতে নৌপুলিশের উপস্থিতি এবং ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব ensures করেছিল নিরাপত্তা। দুপুরে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি যৌথভাবে বের করে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে সদরঘাটে পৌঁছায়, যেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা রেখে দেওয়ার প্রথা অনুসারে পূজার কাজে ব্যবহৃত দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর পুকুর থেকে নেওয়া শান্তিজল হৃদয়ে ধারণ করে পরবর্তী বছরের পূজার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।
সারা দেশে এ বছর ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৫৮টি। প্রতিটি মণ্ডপে প্রশাসন ও পূজা কমিটির যৌথ প্রচেষ্টায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়, মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটি দায়িত্ব পালন করেছে।