প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৫ পিএম
ফাইর ফটো।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু গণমাধ্যম ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রচার করেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে না।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক পার্থক্য ও আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিভাষার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বার্তা আক্ষরিকভাবে অনুবাদ করলে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়, কিন্তু আমাদের অঞ্চলের পরিস্থিতি তার সমান নয়। তাই সংবাদ প্রকাশের সময় সতর্কতা প্রয়োজন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা আছে।
গভীর নিম্নচাপটি দুপুরে অবস্থান করছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। এটি ধীরে ধীরে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাত ৯টার নাগাদ গোপালপুর ও পারাদ্বীপের মধ্যে ওড়িশা ও সংলগ্ন অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝাড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সমুদ্র উত্তাল এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।