× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ

দেশে জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যা কমছে

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:২৪ এএম

দেশে জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যা কমছে

জলাতঙ্ক রোগে বিশ্বে প্রতি ৯ মিনিটে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। তা ছাড়া এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ১৫০টি দেশে জলাতঙ্ক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। তবে আশার কথা, বাংলাদেশে এই রোগ কমে এসেছে। 

২০১২ সালে জলাতঙ্ক রোগে দেশে দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এটি বর্তমানে কমে এসেছে। তবে দেশে গত প্রায় দুই বছর যাবৎ জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাক্সিন উৎপাদন হচ্ছে না। এতে করে প্রয়োজনীয় সকল ভ্যাক্সিন আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে যখন এ অবস্থায় তখন আজ রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলাতঙ্ক নির্মূলে কাম করি তুমি-আমি সবাই মিলে’। 

কুকুর ও বিড়ালের আঁচড় বা কামড় থেকে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারের পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, জলাতঙ্ক ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক রোগ। এটি মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে সংক্রমিত হয়। শতকরা ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক হয় কুকুরের কামড়ে। তা ছাড়া শিয়াল এবং অন্যান্য প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালা, মিউকাস মেমব্রেনের সংস্পর্শে এলে এ রোগ হতে পারে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বের ১৫০ দেশে জলাতঙ্ক রোগ শনাক্ত হয়েছে এবং ৫৬টি দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বে বছরে ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মৃত্যুবরণ করে, যা প্রতি ৯ মিনিটে একজন মানুষের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে ৪ জনই শিশু। জলাতঙ্কের কারণে বিশ্বে বছরে আর্থিক ক্ষতি হয় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে ১৬-১৮ লাখ কুকুর রয়েছে। সেখানে প্রতি ৯৬ জন মানুষের বিপরীতে একটি কুকুর রয়েছে। 

ঢাকায় পথ কুকুরের সংখ্যা সম্পর্কে অভয়ারণ্য বাংলাদেশের সংগঠক রুবাইয়া আহমেদ বলেন, গত তিন বছরে ঢাকায় কুকুরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। আমাদের মধ্যে পথ কুকুরকে খাওয়ানোর একটি রেওয়াজ চালু হয়েছে এতে এদের বংশ বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। 

দেশে ২০২০ সালে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ৪ হাজার ১৪৩ জন, ২০২১ সালে ৩ হাজার ৬৫, ২০২২ সালে ১ হাজার ৬২৩ এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ১৩০ জন। অর্থাৎ গত ৫ বছরে জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৩ জন। 

২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঠানো ৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেখানে ৭৩ জন জলাতঙ্গের রোগী, ২০২১ সালে ৩২৪ নমুনায় ২০৩টি শনাক্ত হয়, ২০২২ সালে ৪৭০টি নমুনায় ধরা পড়ে ২৭৮টি, ২০২৩ সালে ১৭৫টি নমুনায় ১২৫টি, ২০২৪ সালে ২০টির মধ্যে ৫টি এবং চলতি ২০২৫ সালে ২৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩টি শনাক্ত হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, আমাদের কার্যক্রমের কারণে দেশে ক্রমাগতভাবে জলাতঙ্ক রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। ২০১২ সালে এ রোগে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, গত বছর তা কমে ৫৬ জনে নেমে এসেছে। 

কুকুরের কামড়ের চিকিৎসার জন্য আগে সরকারিভাবে ভ্যাক্সিন বা টিকা উৎপাদন হতো। বর্তমানে এসব টিকা উৎপাদন হয় না। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের সিড নেই। গত প্রায় দেড় বছর যাবৎ সিড না থাকায় ভ্যাক্সিন উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এখন চিকিৎসা চলছে মূলত আমদানি করে। 

তিনি বলেন, কুকুর বা বিড়ালে কামড় দিলে অথবা আঁচড় দিলে তাকে ২ থেকে ৫টা টিকা নিতে হয়। বর্তমানে তাতে ব্যয় হয় এক হাজার টাকার মতো। 

বর্তমানে দেশে জলাতঙ্ক রোগের যত টিকা দরকার তার বেশিরভাগই আমদানি করে এসিআই এগ্রি বিজনেস। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এফ এইচ আনসারী বলেন, দেশে বছরে যে পরিমাণ টিকা দরকার তার অর্ধেকই আমরা সরবরাহ করে থাকি। সিডের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরবরাহ অব্যাহত রাখব। 


দেশে ২০৩০ সালে জলাতঙ্ক নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা 

২০৩০ সালে শতভাগ জলাতঙ্ক নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘আমরা জলাতঙ্ক নির্মূল করতে কুকুরকে টিকা দিচ্ছি। এ পর্যন্ত ২৯ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ২০ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হবে।’ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের কনভেনার ডা. মো. শফিউল আহাদ সরদার বলেন, আমাদের টিকা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। দেখা গেলে ঢাকার একটি অঞ্চলে টিকা দেওয়া হলোÑ বাকিরা টিকার আওতার বাইরে। সে ক্ষেত্রে সারা দেশে একবারে সকল কুকুরকে টিকার আওতায় আনতে হবে। 

এ সম্পর্কে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, মানব স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে কুকুরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। অন্য প্রাণীদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। কেননা রোগবালাই বিভিন্ন প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, কুকুর মানুষকে দেখলেই কামড় দিতে তেড়ে আসে না। তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করলে বা আঘাত করলে কামড় দেয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের প্রাণীদের প্রতি মানবিক হতে হবে। 

এদিকে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, কুকুর দেখলেই তাদেরকে দূর দূর করে তাড়াতেই আমরা পারদর্শী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে প্রাণীদের প্রতি মমতা দেখাতে হবে। 

তিনি বলেন, জলাতঙ্কের আগেও অনেক উপসর্গ দেখা দেয়। জলাতঙ্ক হচ্ছে শেষ ধাপ। তাই শুরু থেকেই চিকিৎসা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কুকুর, বিড়ালের আঁচড়কে গুরুত্ব দিতে চাই না, কেবল কামড় দিলে অথবা আঁচড়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে চিকিৎসার কথা চিন্তা করি। এসব অবস্থা থেকে বের হয়ে শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি বলেন, জলাতঙ্ক নিয়ে কোনো আতঙ্ক নয় বরং সচেতনতা বাড়াতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা