প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:৫৯ পিএম
সেন্টমার্টিন ব্যবসায়িদের হাতে ছেড়ে দিলে তারা সেটি ধ্বংস করে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলাবায়ু পরিবর্তন এবং পানি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, কখনো সেন্টমার্টিনে পর্যটন বন্ধ করা হয়নি বরং নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে বলে যারা আন্দোলন করছে তারা মূলত হোটেল-রেস্তরার ব্যবসায়ী। জাহাজের ব্যবসায়ী। তাদের হাতে সেন্টমার্টিন ছেড়ে দিলে তারা তা ধ্বংস করে ফেলবে। তাই আমরা পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করছি। তিনি বলেন, প্রকৃতি নষ্ট না করে পর্যটন করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর পানি ভবনে মার্ক অ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মুহাম্মদ এজাজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ। নদী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় দুইজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এ বছর গবেষণা ক্যাটাগরিতে মার্ক অ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া ও সাংবাদিকতায় দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার জাহিদুর রহমান এবং সংগঠনে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা)।
অনুষ্ঠানে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ৩১ বছর পার করেছি পাহাড়, নদী ও বন নিয়ে আন্দোলন করে। কিন্তু আমি যে দায়িত্ব পেয়েছি সেখানে নদী আমার অধীনে নেই। তাই পানি আইনের মাধ্যমে নদী নিয়ে কী কাজ করা যায় তাই করছি। হাওড়, বিল, নদী নিয়ে কাজ করছি। অন্তর্বর্তী সরকারের আগে সময় সম্পর্কে না জানার কারণে কোন কাজটা আগে করতে হবে তা নির্ধারণ করা যায়নি। এখন যেহেতু সময় কম তাই তালিকা ধরে কাজ করছি।
মুকিত বাবু বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে নদীগুলোকে পূর্বের ভালো অবস্থায় নিতে যেতে পারবো। আমরা নদী কেন্দ্রিক বেঁচে ছিলাম। নদীকে দূষণমুক্ত করতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হবে। নদী আমাদের, রক্ষা করার দায়িত্বও সবার।
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, বাংলাদেশের নদী আন্দোলনগুলো ভারত তদারকি করে। আমাদের একজন তিস্তা নিয়ে আন্দোলন করতেন এখন তিনি ওয়াল্ডলাইফ ছবি তুলে বেড়ান। গঙ্গা নিয়ে কাজ করে এমন লোক পাওয়া যায় না। দেড় দশকে নদী নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। অধিকারের কথা চিন্তা করলে দেখা যায় নদীরক্ষা কমিশন একটা মামলা পর্যন্ত করেনি।
মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, নদীকে বাদ দিয়ে সভ্যতা ঠিক করা যাবে না। চলতি বছরে ১৪১৫টি নদীর তালিকা প্রকাশ করেছে। সুস্থ প্রজন্মের জন্য নদীদূষণ বন্ধ করতে হবে।