প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:১২ পিএম
জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, কুকুর-বিড়ালের কামড়, আচড়ের ফলে সবশেষ জলাতঙ্ক রোগ হয়। এটিকে আতঙ্ক না ভেবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।
প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলাতঙ্ক নির্মূলে কাজ করি সবাই মিলে’।
সেমিনারে ফরিদা আখতার বলেন, আমাদের কুকুর নিয়ে চিন্তা-ভাবনা নেতিবাচক। জলাতঙ্কের আগেও অনেক লক্ষণ দেখা দেয়। জলাতঙ্ক হচ্ছে শেষ ধাপ। আমরা কুকুর বিড়ালের আচড়কে গুরুত্ব দিতে চাই না, কেবল কামড় দিলে অথবা আচড়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে চিকিৎসার কথা চিন্তা করি। এসব অবস্থা থেকে বের হয়ে শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
তিনি বলেন, জলাতঙ্ক নিয়ে কোন আতঙ্ক নয় বরং সচেতনভাবে কাজ করবো। আতঙ্কিত না হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে।
কুকুরের প্রতি আচরণ বদলাতে হবে উল্লেখ করে বলেন, কুকুর দেখলেই তাদেরকে দূর দূর করে তাড়াতেই আমরা পারদর্শী। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে প্রাণীদের প্রতি মমতা দেখাতে হবে। সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
আবু সুফিয়ান বলেন, ২০১১ মিনিস্ট্রি হেলথ ওয়েলফেয়ারের অধিনে কুকুরকে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, মানব স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কুকুরের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। এ মুহূর্তে রোগ নিয়ে গবেষণা করাও দরকার। আমাদের প্রাণিদের প্রতি মানবিক হতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, বিশ্বের ১৫০ দেশে জলাতঙ্ক রোগ শনাক্ত হয়েছে এবং ৫৬টি দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগ ১৪ দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। কুকুর, বিড়াল, বন্যপ্রাণী থেকে রোগটি মানুষে ছড়ায়। বিশ্বে বছরে ৫৯ হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মৃত্যুবরণ করে যা মিনিটে ৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়। সেখানে ৪ জনই শিশু। বছরে আর্থিক ক্ষতি হয় ৮.৬ বিলিয়ন ডলার।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসিআই এগ্রি বিজনেসের প্রেসিডেন্ট ড. ফা আনসারি, আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন, বিএলআরআইর পরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।
বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ঔষাধাগারের পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, গ্লোবাল হেলথ সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট ডা. মো. আবুল কালাম, কেন্দ্রীয় ভেটেনারি হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আজিজ আল মামুন প্রমুখ।