× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপার সম্ভাবনা, তবুও স্থবির পর্যটন খাত

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:১১ এএম

অপার সম্ভাবনা, তবুও স্থবির পর্যটন খাত

‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’। কিন্তু দেশে অপার সম্ভাবনা থাকলেও নানা অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনার অভাব আর অবকাঠামোগত দুর্বলতায় পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত সাফল্য মিলছে না। তবে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশের পর্যটনকে ‘অর্থনীতির নতুন ইঞ্জিন’ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটক বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতে, ১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থার সংবিধান গৃহীত হয়। এদিনটিকে স্মরণ করেই ১৯৭৯ সালে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়ে আসছে। পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। এবারের আয়োজক দেশ মালয়েশিয়ার মালাকা; যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সেখানে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা নতুন দিকনির্দেশনা দেবেন। 

সূত্রমতে, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, প্রাচীন ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে ভরপুর এক দেশ। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। রয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন তথা রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিণের আবাসস্থল। সিলেট, মৌলভীবাজারের চা-বাগান, হাওর ও ঝরনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পাহাড়ি পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি। এখানে পাহাড়, ঝরনা, লেক ও আদিবাসী সংস্কৃতি রয়েছে। আরও রয়েছে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ, আদি ঢাকার স্থাপত্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ইত্যাদি। এসব পর্যটনস্থান ঘিরে হতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত। তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। তবে বাংলাদেশকে পর্যটনবান্ধব করতে হলে প্রথম কাজ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পর্যটক যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে, তবে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পর্যটন খাতে কর্মরত। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে প্রতিবছর শুধু কক্সবাজার ও সুন্দরবন থেকেই হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন শিল্পে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া কিংবা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো বছরে কোটি কোটি বিদেশি পর্যটক টানছে, অথচ বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা গড়ে মাত্র কয়েক লাখ। গত বছর ২০২৪ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ। অথচ প্রতিবেশী নেপাল ১০ লাখ ও শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেছেন ১৫ লাখ পর্যটক।

সীমাবদ্ধতার বেড়াজাল

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সড়ক যোগাযোগ অনিরাপদ ও সময়সাপেক্ষ। পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, শৌচাগার ও নিরাপদ পানি ও খাবারের অভাব। পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ পর্যটনকে উপস্থাপন করার উদ্যোগ খুবই সীমিত। তাছাড়া বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। 

পর্যটন শিল্পে সম্পৃক্তরা বলছেন, এ শিল্পকে লাভজনক করতে হলে সমন্বিত নীতিমালা আবশ্যক। পর্যটন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু দিবস উদযাপন নয়, টেকসই কর্মপরিকল্পনা জরুরি। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, হোটেল, রিসোর্ট ও হোমস্টে ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়া। পর্যটন এলাকায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। ‘সুন্দর বাংলাদেশ’ স্লোগানকে আরও শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যটন মেলায় উপস্থাপন করা। বিদেশি পর্যটকের জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক ও পর্যটন পুলিশকে আরও শক্তিশালী করা। গাইড ও হোটেল ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা। সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত করা এবং প্রবাল প্রাচীর সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। পাহাড় কাটাসহ পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

পর্যটক বিশেষজ্ঞ মেজবাহ উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য কোনোভাবেই ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের চেয়ে কম নয়। কিন্তু তাদের মতো পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক প্রচার বাংলাদেশে নেই। সরকারকে অবশ্যই ট্যুরিজমকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। 

বাংলাদেশের পর্যটনের সম্ভাবনা সীমাহীন। কিন্তু পরিকল্পনাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। পর্যটন শুধু আনন্দ নয়, এটি অর্থনীতি ও শান্তির বড় মাধ্যম। তাই নীতিনির্ধারকদের এখনই দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রয়োজন মেডিকেল, রিলিজিয়াস ও রুরাল ট্যুরিজমে উৎসাহ

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে শুধু ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, আরও কিছু খাতকে পর্যটনে রূপ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। যেমন মেডিকেল ট্যুরিজম হিসেবে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে বিদেশি রোগী আনা সম্ভব। রিলিজিয়াস ট্যুরিজমে লালন শাহ, হজরত শাহ জালাল (রহ.) ষাটগম্বুজ মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা। রুরাল ট্যুরিজম হিসেবে গ্রামীণ জীবন, কৃষি, লোকসংস্কৃতি তুলে ধরা।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, সচিব নাসরীন জাহান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা