× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা

পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সম্প্রীতি নষ্টের ছক

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:০৬ এএম

পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সম্প্রীতি নষ্টের ছক

বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতীয় সামাজিক মাধ্যম ও মিডিয়াগুলোতে ছড়ানো হচ্ছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা গুজব, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টে বড় ভূমিকা রেখেছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উস্কানির আশঙ্কা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নানান শঙ্কার কথা। গোয়েন্দারা দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে মন্দিরে আগুন, প্রতিমা ভাঙচুর ও পুরোহিতদের ওপর আক্রমণের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে তৈরি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের আশঙ্কা করছেন। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি ও সুপারিশে বেশ কয়েকটি নির্দেশনার কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ীই এবার পূজায় সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তার ছক। 

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। দুর্গাপূজা ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করবেন সেনা সদস্যরাও। গতকাল বুধবার থেকেই তারা মাঠে নেমেছেন। দুর্গোৎসব চলার সময়ে গুজব ছড়িয়ে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ‘তাৎক্ষণিক অ্যাকশন’ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ এবং র‌্যাব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী সংগঠন ইসকন বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের শতাধিক মন্দির ও প্রচারকেন্দ্র বাংলাদেশে রয়েছে। বর্তমান ইসকনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তার থাকায় ইসকন সমর্থিত পূজামণ্ডপগুলোতে হামলার শঙ্কা করছে গোয়েন্দারা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সহিংস উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো দেশে ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ফলে আসন্ন দুর্গাপূজায় সব ইসকন মন্দিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কথা বলা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। 

এ ছাড়াও ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জঙ্গিগোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী মহল দর্শনার্থী-ভক্তবেশে মণ্ডপে ঢুকে বিস্ফোরক দ্রব্য স্থাপনপূর্বক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন র‍্যালি বা শোভাযাত্রায় রাস্তার দুই পাশের উঁচু ভবন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার অপচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় দুর্গাপূজা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেশকে অস্থিতিশীল করতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসাধারণকে টার্গেট করে অনেকে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে তাদেরও নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ফরিদপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, নওগাঁ এবং বরিশাল জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে, ২০১৩ সালে পাবনার সাঁথিয়ায়, ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে, ২০১৭ সালে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়, ২০১৯ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে, ২০২১ সালে কুমিল্লার নানুয়া দীঘিরপাড়ে এবং গত বছর ফরিদপুরের মুধখালীর মতো ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে অশান্ত করতে তৎপর একটি অপশক্তি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার দেশে ৩১ হাজার ৫৭৬টি মণ্ডপে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাঝে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ হাজার ৫৪টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া ৮ হাজার ২৭৯টি মণ্ডপে নেই সিসি ক্যামেরা। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই দেশের ৫৭ ভাগ মণ্ডপে, আর্চওয়ে বা মেটাল ডিটেক্টর নেই ৭৯ ভাগ পূজামণ্ডপে। 

প্রতিবেদনে দেশের কয়েকটি জেলার কোনো পূজামণ্ডপই যেন অরক্ষিত না থাকে, সে ব্যাপারে জোর দিতে বলা হয়েছে- স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা চালাতে পারে। তারা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব এবং টুইটারে গুজব ছড়িয়ে স্বার্থ হাসিল করতে পারে। এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটি গঠন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করেও পূজামণ্ডপ ঘিরে পরস্পরবিরোধী গ্রুপের মধ্যেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এজন্য গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সুইপিং, আর্চওয়ে গেট স্থাপন, হ্যান্ড হেল্ড ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। নারী দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির জন্য নারী পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, মণ্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে স্থানীয় থানার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কথাও বলা হয়। সাইবার প্যাট্রলিং জোরদার, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্র ধরে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যাতে কেউ আক্রমণ করতে না পারে- সেজন্য সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মুসল্লিদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। সব মণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন পাহারার ব্যবস্থার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুবিধাজনক স্থানে অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, ডুবুরি দল, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং ক্রসিংয়ে চেকপোস্ট স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। 

দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাশের একটি দেশ থেকে গুজব ছড়িয়ে দেশে অশান্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সজাগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হবে।’ পূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা