× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমআরটি-৫

থমকে গেছে মেট্রোরেল প্রকল্প

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৪১ এএম

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৪ এএম

থমকে গেছে মেট্রোরেল প্রকল্প

যানজটের নগরীতে মেট্রোরেল এখন জাদুর বাহন। নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হওয়ায় নগরবাসীর প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে এই পরিবহন। সেই চাহিদা পূরণে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প (এমআরটি-৫ সাউদার্ন রুট) নেওয়া হয়।

তবে শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়ায় প্রকল্পটি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, বিলাসী পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবিরোধী প্রস্তাবনা নিয়ে আপত্তি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়। পাশাপাশি আরও ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে আপত্তি জানায় পরিকল্পনা কমিশন।

এসব আপত্তি নিয়েই একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাধা দেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। 

তিনি নোটে নির্দেশ দেন, ‘পুনরায় পর্যালোচনার জন্য স্থগিত করা হলো।’ তার দপ্তর থেকে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়ে কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগকে জানানো হয়েছে- পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প স্থগিত থাকবে। ফলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) আপাতত অপেক্ষায় থাকতে হবে। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ‍্য জানা গেছে। 

প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় নানা খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ব্যয় ৬ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা কমিয়ে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে সড়ক বিভাগ। এর মধ্যে সরকারের অংশ ১৫ হাজার ৩৮৯ কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ ৩২ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, যা আসবে এডিবি ও কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক থেকে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতাল রেল এবং আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়াল রেল নির্মিত হবে। ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার এই রুটে থাকবে ১৫টি স্টেশনÑ এর মধ্যে ১১টি ভূগর্ভে ও ৪টি মাটির ওপরে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বড় প্রকল্প অনুমোদনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কিছু মেগা প্রকল্প স্থগিত বা পুনঃপর্যালোচনায় রাখা হয়েছে। সম্প্রতি উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই কেবল এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।

যেসব আপত্তির সমাধান হয়নি

উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিবেচনা করে নেওয়া হয় প্রকল্পটি, যা ইতোমধ্যে গালগল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে। প্রকৃতপক্ষে এ প্রকল্পটি কোনো বাণিজ্যিক অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত এমআরটি-৫ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক এলাকা সংযুক্ত করে না। 

ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনায় প্রকল্প প্রকল্পটি নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি)-২০১৫-এর আলোকে নেওয়া হয়েছে। এই প্ল‍্যানের আওতায় ইতোমধ্যে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ করা হয়েছে, যা ত্রুটিপূর্ণ এবং অর্থের অপচয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তা ছাড়া ডিটিসিএ বর্তমানে বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়েও কাজ করেছে। যেগুলো পুরোপুরি সফল হয়নি।

এমআরটি৬ নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকার পরেও প্রকল্পটিতে ১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার পরামর্শক ব্যয় চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, পরামর্শক খাতে যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি মোট ব্যয়ের ৩.৪ শতাংশ। 

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতায় ‘রিজার্ভ ফর কমিটমেন্ট চার্জ অন লোন’ বাবদ ১২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ চাওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তবে পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে, এ খাত দুটি প্রকল্পের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়। এ কারণে বাস্তবায়নকালে প্রকল্পের কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যৌক্তিক নয়। এ কারণে এ দুটি খাত অন্তর্ভুক্ত করা আর্থিক ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী হবে। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘সাধারণত এ দুই খাতের ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে সরকারকে কমিটমেন্ট ফি ও ঋণের সুদ দিতেই হবে। পরিকল্পনা কমিশনকে দেখতে হবে এত বৃহৎ একটি প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো ধরা হয়েছে কি না। ভালো করে যাচাই-বাছাই করে ব্যয় নির্ধারণ করা হলে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।’

আরও যেসব আপত্তি

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর আওতায় সরকারি তহবিলের অর্থে ৫৪টি যানবাহন যেমন- ২১টি জিপ, ১৫টি পিকআপ, ১২টি মাইক্রোবাস ও ৬টি মোটরসাইকেল ভাড়া বাবদ ১০১ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রস্তাব আছে। এ ছাড়া বর্ধিত ভাড়া হিসেবে আরও কিছু অর্থ প্রয়োজন হবে বলে বলা হয়েছে। এ খাতের ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে পিইসি সভায়। এ ছাড়া ৭ বছরের জন্য ২ হাজার বর্গমিটার অফিস ভাড়া বাবদ চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। কিন্তু মেট্রোরেল ভবনের বাইরে এ ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। প্রকল্পের আওতায় ইউটিলিটি স্থানান্তর বাবদ চাওয়া হয়েছে ৯৩০ কোটি টাকা। 

জানা যায়, প্রকল্পে রোলিং স্টক অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন ডিপোর জন্য চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৬৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মেইন লাইনে সিভিল ও স্টেশনের কাজ এবং ডিপোতে সিভিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের জন্য ১৭ হাজার ৯৮৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই অ্যান্ড এম) খাতের জন্য চাওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এসব খাতে ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হবে। আরও যেসব খাতের ব্যয় প্রস্তাবের প্রশ্ন সামনে এসেছে সেগুলো হলো- দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ খাতে ২ কোটি ৯৯ লাখ, রাজস্ব খাতে সম্মানী বাবদ ২ কোটি ৭৫ লাখ, সেমিনার-কনফারেন্স বা ওয়ার্কশপ এক্সপেন্স খাতে ৫ কোটি, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে ৮ কোটি ৪০ লাখ, অফিস স্টেশনারির জন্য ১ কোটি ২৬ লাখ এবং লিগ্যাল এক্সপেন্স খাতের ৪৯ লাখ টাকা। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা