প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:৪৯ পিএম
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২২টি দেশের সাগর থেকে আহরিত বর্জ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে সিগারেটের ফিলটার। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশসহ পলিথিনের মোড়ক ও জর্দা-গুল ব্যবহৃত প্লাস্টিক কৌটা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছে। এর ফলে জলজ এবং স্থলজ জীবনের জন্য হুমকি।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘তামাকমুক্ত প্রজন্ম: আইন শক্তিশালীকরণে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধে এসব জানানো হয়। বৈঠকটির আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
আত্মার কো-অর্ডিনেটর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আলোচক হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, চিকিৎসক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. অনুপম হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।
মো. হাসান শাহরিয়ার তার প্রবন্ধে বলেন, বছরে ৭১ বিলিয়ন সিগারেটের ফিলটার মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশ এবং জীব-বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, তামাকে ৭ হাজারের মত কেমিক্যাল রয়েছে। তারমধ্যে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এ ধরনের ৭০টি কেমিক্যাল রয়েছে। কেননা হৃদরোগ, ক্যান্সার ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রধান কারণ তামাক।
এদিকে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দেশে বিদ্যমান আইনটি শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় তামাক কোম্পানির সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সভা পুরোপুরি জনস্বার্থবিরোধী বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তামাক কোম্পানির সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি সভা আয়োজন করতে যাচ্ছে। সভাটিতে দেশ-বিদেশের তামাক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্তদের অংশীজন হিসেবে উল্লেখ করে মতামত প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকারের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রচেষ্টার পথে অন্তরায়। জনস্বার্থ বিরোধী এবং জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী এ ধরণের কর্মসূচির আয়োজনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট উদ্বিগ্ন এবং উৎকন্ঠিত। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে তামাক কোম্পানির সাথে এধরণের বৈঠক প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।
তাতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি Framework Convention on Tobacco Control (FCTC)-এফসিটিসি -এর আর্টিকেল ৫.৩ অনুযায়ী, অংশীদার রাষ্ট্রসমূহের তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিতে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এফসিটিসি -এর স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণে নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি এই কনভেনশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশরও সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ্য করছি সারাবিশ্বে যেখানে তামাকের ব্যবহার হ্রাসে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সেখানে আমাদের দেশে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তামাক কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা অংশে ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য পূরণে যেখানে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ জরুরি সেখানে কেবলমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে তামাক কোম্পানিকে এই ধরণের সুযোগ দেয়া এবং বিদ্যমান আইনকে দূর্বল করতে তামাক কোম্পানির মতামত নেয়া এদেশের সংবিধান, জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী।