× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফল ছুঁতে বিফল এখন মধ্যবিত্ত

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০১ এএম

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০:০২ পিএম

ফাইল ফটো।

ফাইল ফটো।

স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শফিকুল আলম। সাত দিন জ্বরে ভোগেন তিনি। রোগ থেকে সেরে ওঠার পর চিকিৎসক তাকে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ফল কেনার জন্য তিনি বাজারে যান। বিক্রেতার কাছে আপেল, মাল্টা ও আঙ্গুরের দাম জিজ্ঞেস করেন। দাম শুনে তিনি অবাক। এসব ফলের দাম গত বছরের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি বেড়েছে। ফলের দাম তার নাগালের বাইরে হওয়ায় না কিনেই বাড়ি ফেরেন শফিকুল। চড়া দামের কারণে শফিকুল আলমের মতো অনেক মধ্যবিত্ত মানুষ এখন ফল খাওয়া ছেড়েই দিয়েছেন। ফল এখন গরিবরাতো বটেই, মধ্যবিত্তদেরও নাগালের বাইরে। তারা বিফল হচ্ছে ফল ছুঁতে। আপেল, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ অন্যান্য ফলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ‘আমরা তো ইচ্ছে করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকেই আনতে হচ্ছে বেশি দামে।’

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা যায়, চায়না আপেল প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা এবং সবুজ আপেল প্রতিকেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙ্গুরের দাম প্রতিকেজি ৪০০ টাকা এবং সবুজ আঙ্গুরের দাম প্রতিকেজি ৫২০ টাকাকমলা কেজি ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৪০০ টাকা, নাশপাতি ৩৫০ টাকা এবং বেদানার কেজি ৪৫০-৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ড্রাগন ফল কেজি ২২০ টাকা, দেশি পেয়ারা ৭০ টাকা, সাগর কলার ডজন ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতিটি ৩০০ টাকা, জাম্বুরা ৭০ টাকা এবং আনারস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক বছর আগে ২০২৪ সালে আপেল কেজিপ্রতি ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৮০ টাকা, অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। আঙ্গুরের দাম ২১০-২২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০-৫০০ টাকা হয়েছে, দাম বেড়েছে ১২৭ শতাংশকমলা ১৮০-২২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০-৩৭০ টাকা, দাম বেড়েছে ৮২ শতাংশমাল্টা ২৪০-২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮০-৪০০ টাকা হয়েছে, দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশকলা হালিপ্রতি ১৫-২৫ টাকা থেকে ৪০-৫৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ বেড়েছে ১২০ শতাংশ। সব মিলিয়ে আমদানিনির্ভর ফলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠান মাল্টা আমদানি করে। নতুন অর্থবছরের জুলাই মাসে মাত্র ৩০ জন ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি করেন। গত অর্থবছরে প্রতিমাসে গড়ে এক কোটি ৪০ লাখ কেজি করে মাল্টা আমদানি হয়েছে। নতুন অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ জুলাই মাসে মাল্টা আমদানি করা হয় মাত্র ২৭ লাখ ৫৭ হাজার কেজি; যা স্বাভাবিক গড় চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ।

চট্টগ্রামের প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফল আমদানি করা হয়েছে ৩৪০ হাজার টন। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি করা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৮৯৪ টন।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরে ফলের দামে ১০ থেকে ১০০ টাকার ব্যবধান দেখা গেছে। ওয়াশিংটন আপেল ভারতে ১৯৭-২৪৮ টাকা, বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। দেশীয় শিমলা আপেল ভারতে ১০৬-১৫২ টাকা, বাংলাদেশে ৩৫০-৪০০ টাকা। আঙ্গুর ভারতে ৩১৫ টাকা, বাংলাদেশে ৪০০-৫২০ টাকা। আপেল পাকিস্তানে ১২৪-২৬৪ টাকা, বাংলাদেশে ৩৫০-৪০০ টাকা। কলার ডজন পাকিস্তানে ৬৭-৭৮ টাকা, বাংলাদেশে ১৫০ টাকা। নেপালে জোলেই আপেল ১৬৬-২০৮ টাকা, বাংলাদেশে ৩৫০-৪০০ টাকা। কলা নেপালে ১০৪-১১২ টাকা, বাংলাদেশে ১৫০ টাকা।

মিরপুরের ফল বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, দামে আগুন। বেচাকেনা একেবারেই নেই। যিনি আগে এক কেজি কিনতেন, তিনি এখন এক পোয়া নেন।

মোহাম্মদপুর ফল বিক্রেতা আবদুল আজিজ বলেন, আগে যেখানে ৫০ হাজার টাকার মাল আনলে এক সপ্তাহ চলত, এখন তা দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়। বিক্রিও আগের চেয়ে অর্ধেক কমে গেছে।

আবদুল রশিদ নামে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন কুড়াতলি বাজার এলাকার ফলের দোকানের সামনে। ফল কিনবেন কি নাÑ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। ফলের দাম যে হারে বাড়ছে, কেনার সামর্থ্য নেই।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দামের মূল কারণ হলো ফলের বাজার কোনো তদারকির আওতায় না থাকা। বিদেশি ফলগুলো কী দামে আমদানি করা হচ্ছে, তার এলসি দাম কত, অন্যান্য দাম কতÑ এটা নিয়ে কোনো পর্যায়ে আলোচনা বা পর্যালোচনা করা হয় না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলীম আখতার খান বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন আটটি টিম অভিযান চালায়। কেউ যাতে ভোক্তার অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়েও সচেতন করি। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কৃষি বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এখন অনেক ফলের মৌসুম নেই। মৌসুমের পরবর্তী সময়ে বাজারে ফলের সরবরাহ কম থাকে, যার কারণে দাম বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিদেশি ফলে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হলো উচ্চ শুল্ক এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া। ফলে ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি খরচে ফল কিনতে বাধ্য হন, যা সরাসরি গ্রাহকের কাছে দাম বাড়িয়ে পৌঁছায়। ফলের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য দেশে গবেষণা করে নতুন জাতের ফলের চাষাবাদ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ফল সারা বছর সহজে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিদেশি ফলের শুল্ক কমানো এবং বাজারে মনিটরিং জরুরি, যাতে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য দাম বাড়াতে না পারেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা