× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কঠোর হচ্ছে সরকার

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৭ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় একযোগে বহুমুখী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক-শিক্ষার্থীর আন্দোলন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের ঝুঁকি এবং নতুন ধরনের মাদক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না সরকার। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমনই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন, শ্রমিক-শিক্ষার্থীর আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে নিরসন, সভা-সমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, দিল্লি ও কলকাতায় কার্যালয় স্থাপন করেছে ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’ আওয়ামী লীগ। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে সরকার। ফলে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থাকে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রিগেডিয়ার (অব.) পদমর্যাদার একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালু হলে তার প্রভাব বাংলাদেশে আসবেই। বিশেষ করে তারা সুসংগঠিত হলে দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে। তাই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে জিরো টলারেন্স থাকবে সরকারের। এজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছেÑমুজিববাদী সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও র‌্যাবকে একযোগে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক সন্ত্রাস রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্মিলিত ও সুসমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এ হুমকি মোকাবিলা সম্ভব নয়।

এদিকে শ্রমিক-শিক্ষার্থী আন্দোলন প্রশমনে উদ্যোগ নেবে সরকার। কারণ বিভিন্ন সেক্টরে শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। রিকশা শ্রমিক, চাকরিচ্যুত বিডিআর ও আনসার সদস্য, পল্লী বিদ্যুতের কর্মী, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষার্থী, নার্স, আয়ুর্বেদিক ডাক্তার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, চা-শ্রমিক ও গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক ও জনপদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শ্রমনীতি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সেক্টরের আন্দোলন যদি দীর্ঘায়িত হয়, অর্থনীতি ও শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই হবে কার্যকর পথ।

কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেজন্য সরকার সভা-সমাবেশে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। বিশেষ করে রাস্তা বা জনসাধারণের চলাচলের পথে অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ করা যাবে নাÑ এমন নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীকে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. গাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দিলেও জননিরাপত্তা ও গণশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। নইলে গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা ও মাদক দমনে নজরদারির বিষয়ে বলা হয়েছেÑ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত নতুন ধরনের চেতনানাশক মাদকদ্রব্য অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মাদক বিশেষজ্ঞ ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন ধরনের মাদক তরুণ সমাজকে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত করছে। শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবারিক দায়িত্বশীলতাও এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন, শ্রমিক-শিক্ষার্থীর আন্দোলন প্রশমনের উদ্যোগ, সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক প্রতিরোধÑ সব ক্ষেত্রেই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এরকম কঠোর নীতি গ্রহণের পেছনে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি দেখালেও, সমালোচক মহল বলছে ভিন্ন কথা। মানবাধিকারকর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ জরুরি, কিন্তু রাজনৈতিক ভিন্নমতকে সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করা হলে গণতন্ত্র সংকটে পড়বে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশ্লেষকের মতে, সরকারের কঠোর নীতিগুলো কার্যকর হলেও যদি রাজনৈতিক সংলাপ, সামাজিক সমঝোতা ও মানবাধিকার উপেক্ষিত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। তারা বলছেন, কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপ, সামাজিক সমঝোতা এবং মানবাধিকারের নিশ্চয়তা না থাকলে এ উদ্যোগগুলো টেকসই হবে না। সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবেÑ নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা