প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৪ পিএম
আগাখান আর্কিটেকচার পুরস্কার ২০২৫ গ্রহণ করেছেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। গত সোমবার কিরগিজিস্তানের বিশকেক শহরে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। মেরিনা তাবাসসুমের উদ্ভাবনী আবাসন সমাধান ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য ২০২৫ সালের এ আগাখান আর্কিটেকচার পুরস্কার পেয়েছেন। মেরিনা তাবাসসুম প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি, যিনি দ্বিতীয়বার বিশ্বব্যাপী স্থাপত্যের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতলেন।
প্রতি তিন বছর অন্তর আয়োজিত এ পুরস্কারের ১৬তম আসরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় কিরগিজিস্তানের বিশকেক শহরের টোকতোগুল সাতিলগানোভ কিরগিজ ন্যাশনাল ফিলহারমোনিকে। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উজবেকিস্তানে নিযুক্ত এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে এক্রেডিটেড বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
পুরস্কারের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রিন্স রহিম আগা খান পঞ্চম বলেন, ‘পরিবেশের প্রতি যত্ন, জ্ঞান ও সহমর্মিতার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে নির্মাণশিল্পে অনুপ্রাণিত করাই এই পুরস্কারের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের স্থাপত্যকে অবশ্যই জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে হবে, শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে এবং আমাদের মানবতাকে লালন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা আশার বীজ বপন করিÑ নীরব দৃঢ়তার কাজ, যা পরিণত হয় নিরাপদ আশ্রয়ে; যেখানে ভবিষ্যৎ মর্যাদা ও আশায় বিকশিত হতে পারে।’
প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার টেকসই সমাধান হিসেবে মেরিনা তাবাসসুমের নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’ প্রকল্পের অভিনব ও কার্যকর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ‘খুদি বাড়ি’ মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানচ্যুত মানুষের জন্য তৈরি একটি সাশ্রয়ী, সহজে খোলা-জোড়া লাগানো ও দ্রুত স্থাপনযোগ্য বাড়ি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য বাঁশ ও ইস্পাত দিয়ে দোতলা এই বাড়ি তৈরি হয়েছে। বন্যার সময় বাড়ির দ্বিতীয় তলা দুর্গত ব্যক্তিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার ২০২৫–এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিচারকমণ্ডলী খুদি বাড়ি প্রকল্পের গভীর পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গিকে বিবেচনায় নিয়েছেন। একই সঙ্গে বাঁশকে বৈশ্বিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারার একটি উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তারা।
১৯৭৭ সালে প্রয়াত আগা খান চতুর্থ প্রিন্স করিম আগা খান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এ পুরস্কার এমন স্থাপত্য ধারণাকে স্বীকৃতি দেয় যা মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণ করে এবং আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করে। পুরস্কারটি বহুত্ববাদ, সামাজিক পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক সংলাপ ও জলবায়ু-সচেতন নকশার অনুঘটক হিসেবে কাজ করা স্থাপত্যকে প্রাধান্য দেয়। পুরস্কারের আর্থিক মূল্যমান এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস ২০১৬ সালেও ঢাকায় অবস্থিত বায়তুর রউফ মসজিদ প্রকল্পের জন্য এ পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।