গোয়েন্দা প্রতিবেদন
শাহরিয়ার জামান দীপ
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৬ এএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৭ পিএম
আর কয়েক দিন পরই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজায় দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় নেমেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি তাদের সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে পূজামণ্ডপ এবং বাড়িঘরে হামলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই প্রস্তুতি হিসেবে গত কয়েক দিনে অনলাইন ও অফলাইনে বেশ কয়েকটি মিটিংও হয়েছে। সেখানে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অংশ নেন। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম সফল এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে কয়েকটি স্থানে ঝটিকা মিছিলও করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজায় মণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এই হামলার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বলবে। এছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নস্যাৎ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা এই হামলা করতে পারে। গত বছরও দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছিল দলটি। ওই হামলার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকাও বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সরকার। তাই তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
বিষয়টি স্বীকার করে গতকাল রবিবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে সারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে সচিবালয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন দুর্গাপূজায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মণ্ডপ ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সজাগ থাকতে বলা হয়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কেউ যেন অপতথ্য ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেজন্য নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ গ্রেপ্তার ৬০
গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকের অনলাইনে দেওয়া নির্দেশনায় মিছিল করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলের স্থানও ঠিক করে দেন এই দুই নেতা। শুধু তা-ই নয়, এসব মিছিল সফল করতে বিনিয়োগও করা হয়। আধা ঘণ্টার ঝটিকা মিছিলের জন্য একেকজনকে ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আইজিপি বাহারুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই পূজা বা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অনলাইনেও তদারকি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যে বা যারাই দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সব দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ খোঁজে, আওয়ামী লীগও এর ব্যতিক্রম নয়। তারাও নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা সফল হতে পারছে না।