প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:২১ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:২২ পিএম
সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শামসুদ্দোহা: ফাইল ফটো
চেক জালিয়াতি মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ড. শামসুদ্দোহা খন্দকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবাবগঞ্জে অবস্থিত তার নিজস্ব রিসোর্ট ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রিন পার্ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শামসুদ্দোহাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হয়েছে।
ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার নিজ বাহিনীতে দুর্নীতির ‘বরপুত্র’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবৈধ অর্থ উপার্জনে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। নদনদী খননকাজের টেন্ডারে কমিশন হিসেবে শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নদী দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।
অবৈধ উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন। ঢাকার উপকণ্ঠ নবাবগঞ্জে শত বিঘার ওপর খামারবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে কয়েক শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দুদকের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম গত বছরের জুলাই মাসে এ চার্জশিট জমা দেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান থাকাকালে শামসুদ্দোহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করেন। এসব অর্থ বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংকের হিসাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে জমা রাখা হয়। এভাবে তিনি ২১ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমার পর তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তুলে উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
এছাড়া, সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানে আরও ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৭৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২), ২৭(১) এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৯১ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের।