× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কয়লা উত্তোলনে জোর দিতে বলেছে জাইকা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫৫ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশকে নিজস্ব কয়লা উত্তোলনের উপর জোর দিতে বলেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোয়াপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। দেশের বিদ্যুৎ জ্বালানির সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে বাংলাদেশে উন্নতমানের যে কয়লা মজুদ রয়েছে তার ১০ ভাগ উত্তোলন করা সম্ভব হলেও ২০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের সমান জ্বালানি পাওয়া যাবে। দেশে এখন উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাস রয়েছে মাত্র ১০ টিসিএফ। এরপর নতুন কোনো জ্বালানি না পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে ব্যবহারের পুরো জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর)  রাজধানীর একটি হোটেলে সমন্বিত বিদ্যুৎ জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যান বিষয়ে জাইকা মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধরী বীরবিক্রম প্রধান অতিথি এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন কোম্পানির প্রধানরা অংশ নেন।

জাইকার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কয়লার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয় বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের কয়লা মজুদ রয়েছে। মোট মজুদের পরিমাণ রয়েছে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন টন। যা ২০০টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের সমান। ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে মজুদ কয়রার মাত্র ১০ শতাংশ উত্তোলন করা সম্ভব হলেও ২০ টিসিএফ গ্যাসের সমান জ্বালানি পাওয়া সম্ভব। অভ্যন্তরীণ কয়লা বহুমুখী সুবিধা দিতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে জাইকা।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ সংকটের মধ্যে ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া এখন কয়লা উত্তোলনে জোর দিচ্ছে। যুদ্ধের ডামাডোলে টনপ্রতি কয়লার দামও বেড়ে হয়েছে ২০০ ডলার। যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। যুদ্ধ পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে নিজস্ব জ্বালানি না থাকলে কিভাবে একটি দেশ বিপাকে পড়েতে পারে। এই পরিস্থিতে বিশ্বের বেশিরভাগ দেখ নিজস্ব জ্বালানির উপর জোর দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, 'কয়লার উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে আমরা একটি মতামতে এসেছি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

'দেশীয় কয়লার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী, তাকে অবহিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা সব ধরনের বিকল্প নিয়ে ভাবছি, কয়লাকে এখন গ্যাসিফিকেশন (গ্যাসে রূপান্তর) করেও উত্তোলন করা যায়।'

তিনি আরও বলেন, 'বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দামের বিষয়টি নির্ভর করছে বিইআরসির উপর। তারা যদি বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, তাহলে বাড়বে না। আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকের কতটা সহনীয় রাখা যায়, গ্রাহককে কষ্ট দিতে চাই না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধির প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে, আমরাও তার বাইরে না। পাইকারি দাম বেড়েছে সেখানেও বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি রয়েছে। আমরা ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এ জন্য জ্বালানিতে ওপেন মার্কেট পলিসিতে যেতে চাই, বিদ্যুতের সঞ্চালন খাতও উন্মুক্ত করতে চাই।'

অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের জন্য উন্নত দেশগুলোকে দায়ি করে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, 'মিটিগেশন আমাদের দায়িত্ব না, এগুলো উন্নত দেশের জন্য প্রযোজ্য। আমরা কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ি না, তাদের তুলনায় অনেক কম কার্বন নিঃসরণ করি। এনার্জি ট্রানজিশনাল শব্দটি আমাদের জন্য যুক্তিসঙ্গত না, এটিও উন্নত দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কয়লা থেকে সরে অন্যদিকে যাচ্ছে সেটাকে ট্রানজিশনাল বলে।'

তিনি আরও বলেন, 'কপ-২৭ এ লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত বিশ্ব। এই ফান্ড দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করবে। আমরা ওই ফান্ড থেকে প্রকল্প নিতে পারি। পরমাণু বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব হিসেবে পরিচিত। পরমাণু বিদ্যুতের স্মল মডিউলার প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে। ছোট ছোট মডিউলার এসেছে, আমরা পরীক্ষামূলক স্মল মডিউলার প্রযুক্তি স্থাপন করতে পারি। আমাদের সামনে হাইড্রোজেন ও কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা