প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩১ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম
ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপে প্রত্যাবাসন নিয়ে ৭ দফা প্রস্তাব করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল থেকে রক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ৭ দফা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সাত দফা প্রস্তাব হলো:
১. নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকরণ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
২. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ জোন গঠন: রাখাইনে একটি নিরাপদ জোন গঠন করে সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা।
৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন বৃদ্ধি: মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা।
৪. রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া: মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
৫. নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ: নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬. স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়: স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ।
৭. জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে সুপারিশ উপস্থাপন: জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সশস্ত ঘাতকদের থামানো আমাাদের নৈতিক দায়িত্ব। সম্পদ ও সামথ্যের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে এবং তারও আগে রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল। মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে আর কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে
তিনি বলেন, দেশ এখন স্থিতিশীলম জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অংশীজন সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে ৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তার প্রথমটি ২৪ আগস্ট শুরু হবে, এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে বড় সম্মেলন হবে জাতিসংঘে। সেখানে আশা করছি ১৭০টি দেশ অংশ নেবে। তারপর আমরা আরেকটা বড় সম্মেলন আশা করছি কাতারের দোহাতে।
প্রেস সচিব জানান, রোহিঙ্গারা যে মানবিক সংকটের মুখোমুখি, সেটিকে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা সহজ নয়। এ জন্য কক্সবাজারে আয়োজিত সম্মেলনে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের কথা বলার সুযোগ পাবেন।