× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব

সড়ক দুর্ঘটনা মামলার তদন্ত ক্ষমতা চায় হাইওয়ে পুলিশ

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৭ এএম

হাইওয়ে পুলিশ

হাইওয়ে পুলিশ

দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্টরা। তাদের চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও সব মামলার তদন্ত করার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে না। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মামলা পরিচালনা করেন। এ কারণে সার্জেন্টদের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত কোনো কাজে আসে না। তা ছাড়াও সার্জেন্টরা যানবাহন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ বিয়গুলোকে সামনে রেখে সড়ক ‍দুর্ঘটনা মামলায় আরও বেশি ক্ষমতা চায় হাইওয়ে পুলিশ। এমন প্রস্তাবনা হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্টদের অভিযোগ, তারা সরাসরি ঘটনাস্থলে থাকলেও তদন্ত করার অনুমতি পান না। তারা অনেক সময় প্রত্যক্ষদর্শীও হন। কিন্তু তদন্তের দায়িত্ব তাদের হাতে না থাকায় তাদের কাছে থাকা তথ্য-উপাত্ত কোনো কাজে আসে না। তাদের ক্ষমতা শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ থাকে। তারা বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বা মাদকাসক্ত চালকের কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের লাইসেন্সও থাকে ভুয়া। দুর্ঘটনার পর এসব ঘটনায় মামলা দিয়ে তারা থানায় সোপর্দ করেন। পরে যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় চালকরা মুক্ত হয়ে আবারও মহাসড়কে গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েন। এতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয় না। তবে মামলাগুলো সার্জেন্টরা তদন্ত করতে পারলে বিষয়টা ভিন্নরকম হতো। 

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জননিরাপত্তা বিভাগে হাইওয়ে পুলিশের পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের সড়ক নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৯১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম রয়েছে। সড়কের দেখভালের জন্য জনবল হিসেবে রয়েছেন ১৭৮ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) (নিরস্ত্র) এবং ১২৮ জন সার্জেন্ট। শুধুমাত্র সাব-ইন্সপেক্টররা (এসআই) দুর্ঘটনা মামলার তদন্ত করছেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা মামলার তদন্ত একটি বিশেষায়িত প্রক্রিয়া। সার্জেন্টরা যানবাহনের গঠন, ট্রাফিক বিধি ও চালকের দক্ষতা যাচাইয়ে বেশি পারদর্শী। তাদের হাতে তদন্ত ক্ষমতা এলে মামলা নিষ্পত্তি দ্রুত হবে এবং গুণগত মানও বাড়বে। এজন্য হাইওয়ে পুলিশ বিধিমালা-২০০৯-এর কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বিধিমালার ‘তদন্ত শাখা-তে সাব-ইন্সপেক্টরের পাশাপাশি সার্জেন্টদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশে জনবল সমস্যা : জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি হাইওয়ে পুলিশের আরেকটি বড় সমস্যা। বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমে প্রয়োজন অন্তত ১০ হাজার জনবল। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ২ হাজার ৯৯০ জন। এর মধ্যে ১ জন অতিরিক্ত আইজিপি, ৬ জন ডিআইজি, ৭ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৯ জন পুলিশ সুপার, ৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১১ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ৮৭ জন পরিদর্শক, ২১ জন টিআই, ১৭৮ জন এসআই (নিরস্ত্র), ১৩৬ জন সার্জেন্ট, ২৩৮ জন এএসআই (নিরস্ত্র), ৯ জন এসআই (সশস্ত্র), ২৪ জন এএসআই (সশস্ত্র), ২ হাজারের বেশি কনস্টেবল। দেশজুড়ে হাইওয়ে পুলিশের থানা আছে ৭৩টি, ক্যাম্প ৮টি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরঞ্জাম খুবই কম। রেকার আছে মাত্র ২৩টি, অ্যাম্বুলেন্স আছে মাত্র ১১টি। গত এক বছরে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৭টি। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৪২৩ জন। প্রসিকিউশনের জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার সময় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স নেই। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ পরিবহন দিয়েই আহতদের নিতে হয়। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে একটি ফৌজদারি মামলা তদন্ত করতে হলে সিজার লিস্ট করা, সাক্ষী গ্রহণ, ঘটনাস্থলের নকশা অঙ্কন ও চার্জশিট প্রস্তুত করতে হয়। এগুলো এসআইরা করতে পারলেও সার্জেন্টরা পারেন না। এর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সাব ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট একই পদমর্যাদার। তাই উভয়ের হাতে তদন্ত ক্ষমতা থাকা উচিত। তবে সার্জেন্টদের হাতে তদন্ত ক্ষমতা দেয়ার আগে তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। 

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সার্জেন্টদের তদন্ত ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সার্জেন্টদের মামলা পরিচালনায় কিছু প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন ১০ হাজার জনবল, কিন্তু বর্তমানে আছে মাত্র তিন হাজার। জনবল বৃদ্ধি না হলে মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা কঠিন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশের সার্জেন্টরা সরাসরি ঘটনাস্থলে থাকেন এবং অনেক সময় প্রত্যক্ষদর্শীও হন। তাদের হাতে তদন্তভার দেওয়া হলে আলামত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মামলা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। তাই এ প্রস্তাব যৌক্তিক। সরকারের উচিত হবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিনের দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও মামলার জটিলতায় সড়ক আরও অনিরাপদ হয়ে উঠছে। সার্জেন্ট পুলিশদের হাতে তদন্ত ক্ষমতা দেওয়া সম্ভব হলে দুর্ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম। হাইওয়ে পুলিশের এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে এসেছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা