প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ২২:২২ পিএম
ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বৈঠকের পর দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যেসব বিষয় উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক হবে ভ্রাতৃত্বের, কোনো হেজিমনি (আধিপত্য) থাকবে না।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের জায়গা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ থাকবে না- এমনটাই প্রত্যাশা এনসিপির। ইসহাক দারের সঙ্গে এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তান দূতাবাস থেকে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণের চিন্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আগে যে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে উন্নতির সুযোগ আছে। এ সময় একাত্তরের ইস্যু অবশ্যই ডিল করা উচিত।
এদিকে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, একাত্তর ইস্যু সমাধানে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে দেশটির সফররত উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আশ্বাস দিয়েছেন।
নতুন সংবিধান প্রয়োজন
এদিন দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই খসড়া সম্পর্কে এনসিপির পর্যবেক্ষণ জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। আমরা ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সংবিধানের মূলনীতি, সংবিধান সংশোধন, সংশোধনের কাঠামো, নারী আসন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তার ক্ষমতা, ক্ষমাপ্রদর্শনের বিধান, জরুরি অবস্থা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল, একাধিক পদে থাকা, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সংসদের সভাপতি করা, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ ও নিয়োগ এবং অন্য কিছু সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এগুলো সরাসরি সংবিধানের সাথে সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকারের মধ্যে যেভাবে বলা হয়েছে, (তাতে দেখা যাচ্ছে) প্রত্যেক বিষয় পরবর্তী সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা খেয়াল করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা যেসব সংস্কার প্রস্তাবনার ব্যাপারে একমত হয়েছি, সেগুলো টেকসই বাস্তবায়ন সম্ভব না। টেকসই বাস্তবায়নের জন্য গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিকল্প নেই।