× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পারদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:৩৪ পিএম

পারদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার

থার্মোমিটার, পেইন্টস, প্রসাধনী, বাতি ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্য থেকে প্রতি বছর ৩২ হাজার ৬৬০ কেজি পারদ পরিবেশে মিশছে। এটাকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে পারদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ‘মিনামাটা কনভেনশন অন মার্কারি’-এর অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

পাশাপাশি ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন-২০২২’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির প্রয়োজন হবে। শতভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো স্বায়ত্তশাসিত, লেজিসলেটিভ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। 

পারদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার

বৈঠকের পর সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে বিদায়ি মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানের আটিক্যাল ১৮ (ক)-তে বলা আছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য মূলনীতি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ চলমান অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক পরিম-লের ‘মিনামাটা কনভেনশন অন মার্কারি’ আমরা সমর্থন করব। মার্কারির (পারদ) লিমিটেড ব্যবহার নিয়ে ২০১৩ সালে মিনামাটাতে কনফারেন্স হয়েছিল। মার্কারি একটি ক্ষতিকর কম্পাউন্ড। আমাদের দেশে থার্মোমিটারে মার্কারি ব্যবহার করা হয়। থার্মোমিটারে মার্কারি ব্যবহার না করে অন্য কিছু ব্যবহার করতে হবে।’ 

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘যখন একটা থার্মোমিটার ভেঙে যায় তখন বাচ্চারা এটা নিয়ে খেলে, আমরাও ছোটবেলায় এগুলো নাড়াচাড়া করেছি। মার্কারি যে ক্ষতিকর সে বিষয়ে আমাদের কারও ধারণা ছিল না। এখন আস্তে আস্তে জিনিসগুলো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ 

মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দ্বৈত করারোপ পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 

তিনি বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট আরও বেশি বেশি দেশের সঙ্গে করা যায় কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।’ 

সরকারি চাকরি আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ) নিজেদের মতো বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও আর্থিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়ার বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন-২০২২ আবার সংসদে পাঠানো হবে। এর আগে কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা নির্ধারণের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হাতে ছিল। কিন্তু এবার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টিও একই বিভাগের অধীন নিয়ে আসা হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতনভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি নিয়ে এবারের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রের যত ব্যয় আসবে সব একটা অ্যাকাউন্টে আসবে, একটা অ্যাকাউন্ট থেকেই খরচ করা হবে। যেটাকে আমরা ট্রেজারি বলি। এ ট্রেজারির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো অর্থ বিভাগ। সুতরাং খরচের ক্ষেত্রে যেন অর্থ বিভাগের এখতিয়ার থাকে। 

‘যদি কোনো করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের মতো বেতন কাঠামো ঠিক করে নেয়, তাহলে তো হবে না। সে জন্য যেকোনো অর্থনৈতিক বিষয় হলে অর্থ বিভাগের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নিতে হবে। এ জন্যই আইনটির মধ্যে এই ছোট কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে।’

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ 

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তায় আরও জোর দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তার বিষয়টিও খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী সাবমেরিন কেবলের জন্য যে প্রকল্প হাতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এখন সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা কেন জোরদার করতে বলা হয়েছে, বিশেষ কোনো কারণ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিশেষ কারণ না। গত দুই-তিন বছর ধরেই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এখন বিষয়টি আরও জোর দেওয়া এবং আধুনিক উপকরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো বিষয় হ্যাক করা না যায়। 

‘এ ছাড়া ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যাওয়া হচ্ছে। এগুলোতেই যেন ভালো রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।’ ৱ

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমি আমেরিকায় গেছিলাম। ওইখানেও দেখলাম দুই-তিনটি বড়-বড় অফিসে হ্যাক হয়ে গেছে। সেজন্য আমাদেরও আর একটু যেন কমফোর্ট থাকে। বিশেষ করে আমরা এখন আস্তে আস্তে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের দিকে যাচ্ছি। ওগুলোতেও যাতে একটু ভালো করে নিরাপত্তা থাকে।’ 

গ্যাস পাইপলাইনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘যেসব জায়গায় গ্যাস ও তেল পাইপলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেসব কাজও তাড়াতাড়ি শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে পরিবহন খরচ না লাগে এবং তাড়াতাড়ি গ্যাস ও তেল সরবরাহ করা যায়। সেই জন্য এ নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।’

তিনি বলেন, ‘আলাদা করে সব জায়গায় পাইপলাইন দেওয়া সম্ভব হবে না। গ্রিডলাইনের মতো। গ্রিডলাইন যেমন মেজর জায়গায় যাচ্ছে, ওরকম পাইপলাইনও মেজর জায়গায় নিয়ে গেলে, যেমন ধরুন ঢাকা থেকে পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস যাচ্ছে সব জায়গায়। এটার খরচ তো স্বাভাবিকভাবেই কম। এজন্যই পাইপলাইন খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা