× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজস্ব প্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১১:১৩ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সরকারের রাজস্ব প্রশাসনে চূড়ান্তভাবে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ‘রাজস্বনীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব প্রশাসন বিভাগ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার। এরপর সরকার উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে। কমিটি পাঁচটি মতবিনিময় সভা শেষে কিছু ধারা পরিমার্জন করার পর রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে মতামত প্রদানের জন্য মন্ত্রিসভা উপকমিটি অনুমোদন দেয়। এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো : সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে একটি মন্ত্রণালয়কে একাধিক বিভাগে ভাগ করতে পারবেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (অর্থ : শুল্ক ও আবগারি) বিধিমালা, ১৯৮০ অনুসারে নতুন বিধি ও কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরীক্ষা এবং প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা হবে। অধ্যাদেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (অর্থ : শুল্ক ও আবগারি) বিধিমালা, ১৯৮০ অনুসারে নতুন বিধি ও কাঠামো প্রণয়ন করা যাবে। দুই বিভাগে এই ক্যাডার থেকে দুজন সচিব নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হতে পারে।

জানা গেছে, কর আদায় বাড়াতে কর কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিলুপ্ত করে দুই স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। তখন প্রধান উপদেষ্টার উইং থেকে জানানো হয়, গত ৫০ বছরের বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর ধারাবাহিকভাবে তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ার সবচেয়ে কম কর-জিডিপি অনুপাতের মধ্যে একটি। বিশ্বব্যাপী এ অনুপাত গড়ে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় এ অনুপাত ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশকে অবশ্যই কর-জিডিপি অনুপাত কমপক্ষে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে বলে সরকার মনে করে।

আরও বলা হয়, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এনবিআর পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করনীতি প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার জন্য একটি একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নেওয়া উচিত নয়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে আসছেন যে, বিদ্যমান নীতিমালাগুলো প্রায়ই ন্যায্যতা, প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে রাজস্ব সংগ্রহকে অগ্রাধিকার দেয়। রাজস্ব নীতিনির্ধারণ এবং প্রয়োগ উভয়ই একই ছাদের নিচে থাকার ফলে করনীতির সঙ্গে আপস এবং ব্যাপক অনিয়মের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় কর আদায়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো কাঠামোগত জবাবদিহিতার আওতায় নেই এবং প্রায়ই করখেলাপিদের কাছ থেকে কর আদায়ের ক্ষেত্রে জনস্বার্থের দিক অগ্রাধিকার না দিয়ে আপস করেন। অনেক ক্ষেত্রে কর আদায়কারীরা কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন না এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদের উল্টো সহায়তা করে থাকেন। কর আদায়কারীদের কর্মদক্ষতা বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া নেই। তাদের কর্মজীবনের অগ্রগতি নিরূপণে কোনো পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতা সূচকও নেই। তারপর সরকার উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করে। 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপকমিটির সভায় জানানো হয়, নতুন নীতি কার্যকর হলে সমস্যা অনেকটা কমে আসবে। সভায় সংশোধিত অধ্যাদেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে একটি মন্ত্রণালয়কে একাধিক বিভাগে ভাগ করতে পারবেন। এতে নীতি বাস্তবায়নে গতি আসবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে; যা নীতির কার্যকারিতা ও তদারকির দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (অর্থ : শুল্ক ও আবগারি) বিধিমালা, ১৯৮০ অনুসারে নতুন বিধি ও কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা হবে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবিধানের ৫৫(৬) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর রুল ৩(র)-এর আলোকে সরকার চাইলে পৃথক বিভাগ গঠন করতে পারবে। প্রতিটি ইউনিট নিজস্ব সচিব, যুগ্ম সচিব ও অন্যান্য প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পাবে। 

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশে করজালের আওতা এখনও সীমিত। রাজস্ব নীতিনির্ধারণে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ থাকলে তা বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক হতে পারে। এটি মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন একসঙ্গে থাকলে প্রায়ই স্বার্থসংঘাত হয়। বিভাগ আলাদা হলে জবাবদিহি এবং দক্ষতা দুটোই বাড়বে। তবে এর জন্য জনবল উন্নয়ন জরুরি। 

সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে আর্থিক সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা