প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৩৮ পিএম
বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে এক সেমিনারে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এখন থেকে নিজস্ব উদ্যোগে অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন।
তিনি বলেন, আগে অভয়াশ্রম ঘোষণার জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হতো। আইনের পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের জটিলতা দূর হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় সরাসরি অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে পারবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) আয়োজনে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।
তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং স্থায়িত্বশীল উৎপাদন বজায় রাখা বর্তমান সময়ে এক বড় চ্যালেঞ্জ। অভয়াশ্রম স্থাপন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অভয়াশ্রম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা জলজ পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে পারি, যা শুধু মাছ নয়, বরং জলজ উদ্ভিদ, কাঁকড়া, শামুক ও অন্যান্য প্রজাতিকে সুরক্ষিত রাখবে। এটি সমগ্র ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর বিগত কয়েক বছরে অভয়াশ্রম স্থাপন, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, নদ-নদী, হাওর ও বিলে বর্ষা মৌসুমে পোনা অবমুক্তি এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংকটাপন্ন প্রজাতির মাছকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন>> দেশি মাছ রক্ষায় জলাশয় চিহ্নিত করতে হবে: মৎস্য উপদেষ্টা
ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম রয়েছে, যার মোট আয়তন ১ হাজার ১৬৯ হেক্টর। গত ৬ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৭.৪১ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৪২.৭৭ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ৫০.১৮ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
ফারাহ শাম্মী বলেন, কাপ্তাই হ্রদে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে ছিল। অভয়াশ্রম স্থাপন ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়। অভয়াশ্রম দীর্ঘমেয়াদী মৎস্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তিনি আইন প্রণয়নসহ তা যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, হাকালুকি হাওরের মাছের উৎপাদন অভয়াশ্রমের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া সাগরে ৫৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখায় পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, হালদা নদীর পাড়ে মুরগির খামারের কারণে মাছের প্রজননে যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।