× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৩১ হাজার পদ ফাঁকা

পৌরসভাগুলো ধুঁকছে জনবল সংকটে

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৪৮ এএম

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৪৯ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দেশের ৩৩০টি পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে ৩১ হাজার ১৪২টি পদ শূন্য থাকায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঘাটতির কারণে একজন কর্মকর্তাকে সামলাতে হচ্ছে একাধিক দায়িত্ব। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, প্রকৌশল কাজ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবল সংকট শুধু প্রশাসনিক সেবাই নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পকে প্রভাবিত করছে।

দেশের ১২ সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৩০টি পৌরসভা ক, খ ও গ এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। এসব পৌরসভার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৯১২টি পদ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ২৯ হাজার ২৩০টি পদ বছরের পর বছর শূন্য পড়ে আছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ১৪২টি। একদিকে জনবল সংকট আরেক দিকে হচ্ছে না পদোন্নতিও। শূন্যপদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ পদে ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে পদোন্নতি হয়নি।

দীর্ঘদিন শূন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে রয়েছে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পূর্বপদ সচিব), প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী ও উপসহকারী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং মেডিকেল অফিসার। জনবল সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রশাসন বিভাগের প্রধান ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ মেয়র বা প্রশাসকের সঙ্গে যৌথভাবে পৌর তহবিল ও প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু অনেক পৌরসভায় এই পদ শূন্য; কোথাও আবার একজন কর্মকর্তাকে একাধিক পৌরসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ পৌরসভায় মেডিকেল অফিসার না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে; মশক নিধন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা অপসারিত হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা সপ্তাহে দুদিন ছুটিতে থাকেন, পাশাপাশি অন্যান্য রুটিন কাজ ও সভায় ব্যস্ত থাকেন। এতে নাগরিক সেবা আরও স্থবির হয়ে পড়েছে।

রংপুর অঞ্চলের একটি ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রশাসক বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ এত বেশি যে তা সামলানো কঠিন। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএপিএস) সভাপতি ও গোসাইরহাট পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আলীম মোল্লা বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তা একসঙ্গে একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা যদি একাধিক পৌরসভার দায়িত্বে থাকেন, তাহলে কোথাও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।’

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের (এলজিআরসি) সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া কোনো পৌরসভা টেকসই নাগরিক সেবা দিতে পারে না। জনবল সংকট শুধু প্রশাসনিক সেবা নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্প, নাগরিক সুবিধা প্রভাবিত করছে।’

এদিকে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে পৌরসভার ৪ শতাধিক কর্মকর্তা, যারা ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ থেকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন। একই অবস্থা হিসাবরক্ষক, উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত/বিদ্যুৎ/যান্ত্রিক) পদেও। সংগঠন কাঠামো অনুযায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত/বিদ্যুৎ/যান্ত্রিক) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক থেকে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, এবং কমিউনিটি কর্মী থেকে সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নোয়াখালী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নূরে আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির জন্য খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করে। তবুও প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে ১২ বছরের চাকরির পরও পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত পদোন্নতির দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম কামরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘পৌরসভার জনবল সংকট নিরসনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সর্বশেষ সমন্বয় সভায়ও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা