প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জালিয়াতির মাধ্যমে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৬৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ডেল্টা অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (১৭ আগস্ট) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক ডিজি আক্তার হোসেন জানান, ব্যাংকিং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ঋণের নামে ৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ৫৮ হাজার ৭২১ টাকা উত্তোলন করে ডেল্টা অ্যক্সেসরিজ লিমিটেড। ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়ায় ১৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৮ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৯১ কোটি ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদসহ ৬৮ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৪ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।
মামলার আসামিরা হলেনÑ ডেল্টা অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ, তার স্ত্রী ও পরিচালক ফেরদৌস আরা বেগম, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির করপোরেট শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার ইমাম বোখারী, এভিপি ও ফরেন ট্রেড ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক, এভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ মো. মোর্শেদ আলম মামুন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনোয়ারুল কবীর, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও করপোরেট শাখাপ্রধান আব্দুল বাতেন চৌধুরী, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুস সবুর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) নাসিম সিকান্দার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নাসির উদ্দিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার অপারেশন সরদার মো. হাজ্জাজ, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) (করপোরেট শাখা) আব্দুর রহমান চৌধুরী, ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) শিল্পী রাণী দাস, এভিপি ও ইনচার্জ শ্যামল কুমার চৌধুরী এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী আবু তাহের।
মামলায় সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও ঋণের প্রস্তাব শাখা কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে মঞ্জুর করা হয়। শর্ত পালন না করেই প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিয়েছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঋণ জালিয়াতিতে ব্যাংকটির ১২ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট আসামিরা (১২ কর্মকর্তা) বিশ্বাস ভঙ্গ করে ঋণ দিয়েছেন এবং ঋণগ্রহীতাসহ আসামিরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।