প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ০০:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে জুলাই সনদের খসড়া। চূড়ান্ত খসড়ায় সনদের পটভূমি, রাজনৈতিক ঐকমত্য হওয়া ৮৪টি বিষয় এবং বাস্তবায়নের আটটি অঙ্গীকারনামা রয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে দলগুলোর কাছে তা পাঠানো হয়। তবে খসড়া সনদের কিছু কিছু জায়গা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়ায় যেসব বিষয়ে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, তা-ও উল্লেখ করা রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়াকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ভাগে জুলাই সনদের পটভূমি, সংস্কার কমিশন গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন এবং কমিশনের কার্যক্রমের বিষয়ে বর্ণনা করা আছে। দ্বিতীয় ভাগে ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো এবং সর্বশেষ ভাগে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা, যেখানে ৯টি ধারায় অঙ্গীকারগুলো উল্লেখ আছে।
এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে জাতীয় সনদকে বিশেষ মর্যাদা ও আইনি ভিত্তি দেওয়ার কথা আছে।
খসড়া সনদটি নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে চলতি সপ্তাহে তৃতীয় দফায় বৈঠকের পর সনদ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। এরপরই সনদে স্বাক্ষর ও প্রকাশ করা হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’।
এদিকে খসড়া সনদের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে সংলাপে অংশ নেওয়া কয়েকটি বামপন্থি দল। জানা যায়, সনদের পঞ্চম ধাপে- ঐকমত্যে উপনীত হওয়া বিষয় অংশের ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ জায়গায় কমিশন যেভাবে মূলনীতি প্রস্তাব করেছে, তাতে একমত নয় কিছু কিছু বামদল। পূর্ণাঙ্গ খসড়া সনদে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ অংশে এভাবে উল্লেখ্য করা হয়েছে- মূলনীতিসমূহ : সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ উল্লেখ থাকবে। ২৪টি দল ও জোট একমত; নোট অব ডিসেন্ট- বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) এবং গণফোরাম।
এই অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা দলগুলো বলছে- ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে এই বিষয়ে আলোচনার সময় ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি অংশের সঙ্গে কমিশনের প্রস্তাব করা নতুন মূলনীতি যুক্ত করলে তাতে দলগুলোর সমর্থন থাকবে- এমনটা জানানো হয়েছিল। ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি বাদ দিয়ে সেই স্থানে নতুন মূলনীতি প্রতিস্থাপন করলে তাদের পক্ষে এই জুলাই সনদকে সমর্থন করা বা স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে নাÑ এমনটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই সময়।
যেহেতু কমিশন আগের চার মূলনীতির কথা উল্লেখ না করে ‘সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে’ শব্দটি ব্যবহার করেছে এবং তারপরই নতুন মূলনীতিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে; এজন্য সেটাকে ‘শব্দের মারপ্যাঁচ’ হিসেবে দেখছে বামদলগুলো।
এই অবস্থায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে ভাবতে হবে বলে জানিয়েছে সিপিবি ও বাসদের দুই শীর্ষ নেতা। তারা দল ও জোটের মধ্যে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরবে বলেও জানিয়েছে। এর আগে এই প্রশ্নে সংলাপ বর্জন করে চারটি দল। বর্জনকারী দলগুলো হলো- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ বাসদ, বাসদ মার্ক্সবাদী। বর্তমান ৭২-এর সংবিধানের মূলনীতিগুলো হলো- জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।