প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৪ এএম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
আজ ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য দ্বারা ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। এরপর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করে ঘাতকরা।
সেই কালরাতেই বিপথগামী সেনা সদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করে ঘাতকরা। সেই রাতে মোট ১৬ জনকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেসময় বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
পঁচাত্তরের বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পদক্ষেপ নেয়। নানা ঘটনাপ্রবাহ শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ হত্যাকারীর ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়। পরে বিদেশে পলাতক আরও এক হত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে এখনও বিদেশে পলাতক রয়েছে আরও পাঁচ হত্যাকারী।