× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন কমিশন

আরপিও খসড়া মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে

দীপক দেব

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ০০:২৪ এএম

আরপিও খসড়া মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে

নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ বা আরপিও সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত করার প্রস্তাব নিয়ে খুব বেশি আপত্তি না থাকলেও এর কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক দলগুলো। আরপিও নিয়ে মোটাদাগে সন্তুষ্টির কথা শোনালেও প্রতীক ব্যবহার, দলীয় অনুদান, পুরো আসনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের প্রস্তাব- এসব বিষয়ে ভিন্ন ধরনের মত উঠে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। এদিকে কমিশনের প্রস্তুতি শেষ করার পর আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত করা সংশোধিত আরপিওর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও সংশোধনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকেই নানা ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও বেশকিছু প্রস্তাব করেছে আরপিও নিয়ে। সেই আলোকেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করে ইসি। তাতে কোনো আসনের ভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ওই আসনের পুরো ভোট বাতিল করার ক্ষমতা, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনীকে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার’ সংজ্ঞাভুক্ত করা, রাজনৈতিক দলের অনুদান সর্বক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা, জোটবদ্ধ হলেও নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া ঠেকাতে ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে দলগুলো ভিন্নমত পোষণ করেছে। 

কমিশন বলছে, কোনো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকতেই পারে, থাকাই স্বাভাবিক। তবে সেটা উপস্থাপন করার দুটি পন্থা রয়েছে। একটি হচ্ছেÑ নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আরেকটি হচ্ছেÑ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে। 

অনুদানের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি 

ইসির প্রস্তাবে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিরীক্ষার বিষয় সুনির্দিষ্ট করা (ব্যত্যয় হয়েছে মনে করলে ইসি সেগুলোই নিরীক্ষা করবে), দলের অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া এবং দাতার আয়কর বিবরণীতে সেটা দেখানোর বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছে কিছু কিছু দল। তবে নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ম্য রোধে কারও কারও মতে এই প্রস্তাব ভালো হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে দলের অনুদান গ্রহণ করার বিষয়টি ঠিক আছে। তবে সর্বক্ষেত্রে এ বিষয়ে রিজিট হওয়া ঠিক হবে না। নেতাকর্মীরা দলকে যা দেয়, এটি ক্ষুদ্র অনুদান। আমরা এখন অনলাইন ও ব্যাংকে অনুদান দেওয়ার নিয়ম করেছি। এর বাইরে রসিদের মাধ্যমেও নেওয়ার অপশন থাকা ভালো। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুদান দিল, কিন্তু দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে সেটি তিনি রেকর্ডে রাখতে না-ও চাইতে পারেন। তাই এই বিষয়ে আরেকটু চিন্তাভাবনা করা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দলীয় অনুদানের প্রস্তাবটা খুবই বিপজ্জনক। ক্রাউডফান্ডিং বিরোধী কোনো বিধান আমরা মানব না। আমরা খুব শিগগির নির্বাচন কমিশনকে আমাদের মতামত দিয়ে  দেব।

তবে বিষয়টিকে সমর্থন করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ আরও দুয়েকটি দল। এই প্রস্তাবে কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিরীক্ষার বিষয় সুনির্দিষ্ট করা, দলের অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধানের সঙ্গে একমত জামায়াতে ইসলামী। 

এ ছাড়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই দাবিটা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিলাম। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ও নির্বাচনে কালোটাকা রোধ করতে এই পদ্ধতিটা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এই অবস্থানের সঙ্গে আমরা একমত। সবগুলো বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করার পরেই দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। 

প্রতীক ব্যবহার নিয়ে ভিন্নমত 

ইসির পক্ষ থেকে আরপিও সংশোধনীতে করা প্রস্তাবে বলা হয়েছেÑ সংসদ নির্বাচনে কোনো দল অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে। এ প্রসঙ্গে ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এটা সংস্কার কমিশনেরও প্রস্তাব ছিল। ইসি এখানে উৎসাহিত-নিরুৎসাহিত কিছু করছে না। এটা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে এককভাবে কিংবা দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে, নাকি জোটবদ্ধভাবে করবে। তবে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও রাজনৈতিক দলগুলো তার নিজের প্রতীক, যে রিজার্ভ প্রতীক আছে, সেটা দিয়ে নির্বাচন করবে। কোনো একটি প্রতীক দিয়ে নয়।

এ বিষয়ে ভিন্নমত জানায়নি বিএনপি। নাগরিক ঐক্যও প্রস্তাবটি সমর্থন করেছে। তবে ভিন্নমত আছে জামায়াতের। দলটির নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মনে করেন, এ বিষয়ে দলগুলোর স্বাধীনতা থাকা উচিত। বাধ্য করা ঠিক হবে না। জোটগতভাবে নির্বাচনে প্রতীক সংক্রান্ত এ প্রস্তাবে আপত্তি আছে গণসংহতি আন্দোলনেরও। এ বিষয়ে দলগুলোর স্বাধীনতা থাকা দরকার বলে মনে করে দলটি।

ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ 

সংশোধিত আরপিওতে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা পুনঃস্থাপন করার প্রস্তাব করেছে ইসি। এতে বলা হয়েছেÑ কমিশন অবস্থা বুঝে এক বা একাধিক ভোটকেন্দ্র বা পুরো আসনে নির্বাচন স্থগিত বা ফলাফল বাতিল করতে পারবে। 

বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতেÑ পুরো আসনের ভোট বাতিল করাটা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও তদন্তসাপেক্ষ। এটার অনুশীলনে কমিশনকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযোগ করার বিপদগুলো থেকে যায়। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। কারও কারও মতেÑ কীভাবে কমিশনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায় এবং ন্যায়সংগতভাবে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া যায়, তার ব্যাপারে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে কোনো প্রার্থী সঠিক মনে না করলে আপিলের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

দুই পন্থায় আপত্তির কথা তুলে ধরার পরামর্শ ইসির 

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আরপিও নিয়ে কমিশন আলোচনা করে একমত হয়েছে, সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকে তাহলে তাদের সামনে দুটো পন্থা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে আপত্তি জানাতে পারে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে। সেখানে তারা বলতে পারে, আমরা এই জায়গাগুলো মানি না, আমরা এটার পরিবর্তে এটা চাই। 

তিনি বলেন, কোনো জিনিসই তো স্থায়ী না। আরপিওটা তো ১৯৭২ সালে হয়েছিল, এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সংশোধনী আনা হয়েছে। সবাই ভালো করার জন্যই এটাকে সংশোধন করে। কিন্তু কতটুকু ভালো হয়Ñ এটা ব্যবহারিক ক্ষেত্রেই বোঝা হয়।

আরপিও সংশোধনের চূড়ান্ত করার প্রস্তাব নিয়ে কমিশনের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, আশা করছি আগামী সপ্তাহে এটা আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো সম্ভব হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংশোধিত এ আইন কার্যকর হবে। ফলে সরকার ঘোষিত আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আইন প্রয়োগ করতে পারবে ইসি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা