প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৭ পিএম
ফাইল ফটো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্কভিত্তিক ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশোতে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে রাজনীতিতে আছি। আমার মতে, নির্বাচনের সময় যারা রাজনীতিতে যুক্ত, তাদের সরকারে থাকা উচিত নয়। তাই তফসিল ঘোষণার আগেই পদ ছাড়ব।
তিনি এখনও স্পষ্ট করেননি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেবেন কি না। জুলাই আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে থাকা আসিফ মাহমুদ আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, মিত্র দলগুলোর বিভাজন, আসন্ন নির্বাচন এবং নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তিনি ক্ষমতার লোভে নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে সোচ্চার থাকার জন্যই সরকারে আছেন। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যেমন জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার সংস্কার প্রস্তাব—শেষ না করলে ঐতিহাসিক দায় থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মেনে নিতে চাননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সেটি সরকার গঠনের আগের ঘটনা এবং পরবর্তীতে সেনাপ্রধান সমর্থন দিলেও ‘বুকে পাথর চাপা’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই বলে স্পষ্ট করেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ড. ইউনূস সরকারের ভেতরে একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র রয়েছে—সামরিক বাহিনী, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও উপদেষ্টাদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য চলছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যেখানে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা পর্যন্ত যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যার দায় তার ওপর পড়ছে। তবে এসব নির্বাচন আয়োজন তাদের হাতে নেই; বিএনপি ও সহযোগী কিছু দল রাজি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে আছে।
মুরাদনগরে শিক্ষক নিপীড়ন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতির কথা জানান। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা শহরই আমার রাজনৈতিক গন্তব্য, স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।