প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১২:৫২ পিএম
ছবি: প্রধান উপদেষ্টা ফেসবুক পেজ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। সরকার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ও ক্ষমতার প্রকৃত মালিক– জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এসব বলেন। সামাজিক ব্যবসা প্রসারে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, এই স্বীকৃতি আমাকে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে আমার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গত বছরের অভ্যুত্থানে শত শত ছাত্র-যুবক একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে। আমরা আজ নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি, যেখানে শাসনব্যবস্থা ন্যায়সংগত, অর্থনীতি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা। তোমাদের সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। প্রকৃত সাফল্য শুধু নিজের জন্য নয়; অন্যদের সঙ্গে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ড. ইউনূস বর্তমান বৈষম্য, সম্পদের কেন্দ্রীয়করণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে দরিদ্ররাও ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যবসা শুরু করতে পারবে এবং জীবন বদলে দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো—সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন—একসঙ্গে আমরা একটি সমৃদ্ধ, উদ্ভাবনী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদির এবং ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ।