প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ
দ্রুত বর্ধনশীল বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে একটি হালাল শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের অধীনে হালাল বিষয়ক সমন্বয়কারী দাতিন পাদুকা হাজাহ হাকিমা বিন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক উন্নয়ন মালয়েশিয়ার (জাকিম) মহাপরিচালক সিরাজউদ্দিন বিন সুহাইমি এবং হালাল উন্নয়ন কর্পোরেশনের (এইচডিসি) প্রধান নির্বাহী হাইরোল আরিফিন সাহারি।
কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের বর্তমান আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া বর্তমানে অন্তত ১৪টি হালাল শিল্প পার্ক পরিচালনা করে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে আছে। অন্যান্য বড় খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অবকাঠামো ও সার্টিফিকেশন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে বাজারে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তারা। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশই হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন দেয়, যেখানে এ পর্যন্ত মাত্র ১২৪টি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন মালয়েশিয়াকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করে হালাল পণ্য শিল্প গড়ে তোলার জন্য কী কী প্রয়োজন তা নির্ধারণ করতে পারি।’ তিনি জানান, অনেক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই হালাল-প্রত্যয়িত পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বৈঠককে একটি মূল্যবান শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘অন্তর্দৃষ্টির জন্য ধন্যবাদ — এটি যেন হালাল পণ্যের উপর একটি ক্লাস।’
এর আগে, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া হালাল বাস্তুতন্ত্রে সহযোগিতার একটি নোট বিনিময় করেছে, যা কর্মকর্তারা ‘হালাল কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার জাকিম মহাপরিচালক সিরাজউদ্দিন বিন সুহাইমি জানান, খুব শিগগিরই দেশের চাহিদা মূল্যায়নে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে।