প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫৯ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২১:০১ পিএম
অনিয়ম হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাইলে পুরো আসনের ফলাফল বাতিল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এছাড়া ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মুলতবি থাকা কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আরপিও একগুচ্ছ এসব সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে আগামী সপ্তাহে সরকারের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
সানাউল্লাহ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইভিএম প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।
তিনি জানান, কমিশন অন্যান্য বাহিনীর মতো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলায় নামাতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলে সেখানে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে না। সেখানে ‘না’ ভোট হবে। দুইজন প্রার্থী সমপরিমাণ ভোট পেলে লটারি নয় পুনরায় নির্বাচন হবে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনে কোন অনিয়ম হলে একটি, দুইটি অথবা পুরো আসনের ফলাফল নির্বাচন কমিশন চাইলে বাতিল করতে পারবে। এছাড়া ফলাফল ঘোষণার সময় সাংবাদিকরা থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধান ছিল সব আসনে। পরে নবম সংসদে তা বাদ দেওয়া হয়। এবার ‘না’ ভোটের বিধান চালুর প্রস্তাব ছিল সংস্কার কমিশনেরও। তবে ইসি সব আসনে ‘না’ ভোটের বিধান চালু না করলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোধে শুধু একক প্রার্থী থাকলে তাকে ‘না’ ভোটের সঙ্গে লড়তে হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোধে এ ব্যবস্থা করেছে ইসি।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল নিজেদের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলগুলোকে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। এছাড়া নির্বাচণের আচরণ বিধিতে নারী সম্মান সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানানো হয়।
নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৮৪টি নতুন দলের মধ্যে ২২টি দল বিবেচিত হয়েছে। এসব দলের মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলবে বলে জানান সানাউল্লাহ। এসময় ৮৩টি সংসদীয় আসনে সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন আপত্তি পেয়েছে বলে জানান তিনি।