ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:১১ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:১৯ পিএম
সংশোধন হচ্ছে সরকারি চাকরি আইন। এ আইনের সুবাদে সরকারি কর্মচারীরা দায়মুক্তি পাবেন। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে যাওয়ার পর ‘গুরুতর’ কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তার অবসর-সুবিধা ‘আংশিক’ বা ‘সম্পূর্ণ’ বাতিল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি পাঁচ বছর পর সম্পদের বিবরণী নিজ মন্ত্রণালয়ে জমাদানের নিয়ম বাদ দেওয়ার বিধান যুক্ত করে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ (সংশোধন) হচ্ছে।
কয়েক বছর ধরে আইনটি কার্যকর রয়েছে। সমস্যা দেখা দেওয়ায় তা সংশোধন করা হচ্ছে। এর আওতায় স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। কর্মচারী অবসরে গেলে তিনি যেসব সুবিধা প্রাপ্য হবেন তা নির্ধারিত হওয়ার কথা এ আইনের ১৭ ধারায়। কিন্তু ১৭ ধারায় রয়েছে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়। এবার ১৭ ধারাকে পরিবর্তে ১৫ ধারা প্রতিস্থাপিত করা হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২২’ আজ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের উখাপন করা হতে পারে। একাধিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এই বৈঠক হওয়ার কথঅ। তিন বছর আগে সরকারি কর্মচারী আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পরই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। আইনটি নিয়ে সরব হয়ে ওঠে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আদালতে রিটও চলছে। এছাড়া প্রস্তাবিত সংশোধনে বিদ্যমান আইনের ১, ৪৮ ও ৫০ ধারায় কয়েকটি করণিক ভুল সংশোধনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ধারা ৫০-এর উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত ১৭-এর পরিবর্তে ১৫ প্রতিস্থাপিত হবে। (৪ক)উপ-ধারায় (৪)-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এই আইনের ধারা ১৫, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪ ও ৪৫-এর বিধানসমূহ স্ব-শাসিত সংস্থা, রাষ্ঠ্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
আইনের ৪৮ ধারা সংশোধন : এখানে ‘৫১’-এর পরিবর্তে ‘৪৯’ প্রতিস্থাপিত হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোন কোন ধারা প্রযোজ্য থাকবে তা স্পষ্ট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি গত ২৬ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাবও করা হয়। আইনের এ সংক্রান্ত উপধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি চাকরি আইনে সরকারি কর্মচারীদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘সরকারি কর্মচারী অর্থ এই আইনের আওতাভুক্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি।’ তার মতে, কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে চলে যাওয়ার পর আর ‘প্রজাতন্ত্রের’ কর্মে নিযুক্ত থাকেন না। তাই তাদের এই আইনের আওতায় রাখার সুযোগ নেই।
তারা আরও জানান, একজন সরকারি কর্মচারী মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পেনশনসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। তিনি মারা গেলে তার পরিবারও অনেক সুবিধা পায়। তাই অবসরে গেলেও তাদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের একটা সুযোগ থাকা দরকার। আইনটির প্রস্তাবিত সংশোধনে ১, ৪৮ ও ৫০ ধারায় কয়েকটি করণিক ভুল সংশোধনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এ আইনটি কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে ছয়টি আইন রহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৩ সালে ‘সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে খসড়াটির আমূল পরিবর্তন করা হয়। এরপর সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট নাম বদলে ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আইন’ রাখা হয়। ২০১৮ সালে এসে আইনটির নাম রাখা হয় সরকারি চাকরি আইন। এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। তিন বছর আগে আইনটি কার্যকরের জন্য সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন যায়নি। ফলে গত তিন বছরে সরকারি চাকরি আইনে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে তা সংশোধন করা হচ্ছে। এই আইনের আওতায় স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। কর্মচারী অবসরে গেলে তিনি যেসব সুবিধা পাবেন তা নির্ধারণ করার কথা এ আইনের ১৭ ধারায়। কিন্তু ১৭ ধারায় রয়েছে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়। অবসর গ্রহণকারী সরকারি কর্মচারীকে পুনরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫১ ধারা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অথচ ৫১ ধারাটি হলো অবসর সুবিধা স্থগিত, প্রত্যাহার ইত্যাদি সংক্রান্ত।