প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ০৯:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন এবং গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছে, গুম হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে কিংবা স্থায়ী অঙ্গহানি বরণ করেছে– তারা সবাই জাতীয় বীর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শুধু চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ৩৬ দিনেই একটি ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তা নয়। এই রক্তের সিঁড়ি তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য এ কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, পুলিশি নির্যাতনসহ নানা প্রতিহিংসামূলক হামলায় ৭ হাজার ১৮৮ জন ভুক্তভোগী হয়েছে। এর মধ্যে ৭০৯ জন গুমের শিকার, তার মধ্যে অনেকে এখনও ফিরে আসেনি, তারা আমার মতো সৌভাগ্যবান নয়। ২ হাজার ৬৯৩ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি হত্যা, ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত এবং ৫ শতাধিক ব্যক্তি চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখনও সঠিক তালিকা প্রণয়ন করতে পারেননি। হাসপাতালের রেজিস্টার গায়েব, গণকবরের সন্ধান অজানা; তবু উদ্যোগ নিতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা তা পালন করব ইনশা আল্লাহ।
মানসিক ও দৃষ্টিভঙ্গি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করলেই হবে না, যারা রাষ্ট্র চালাবেন এবং যারা নাগরিক- উভয়ের মানসিক পরিবর্তন জরুরি। শুধু সরকারের কাছ থেকে সব আশা না করে জনগণকেও দেশের জন্য কী করা যায় তা ভাবতে হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে মানবিক, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে হবে। যারা আজ অন্ধত্ব বরণ করেছেন বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সন্তানরা যেন কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্র দেখতে পায়Ñ সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনর্জন্ম না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।