হাসপাতাল গড়ার প্রত্যয়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ০০:৩৪ এএম
চীনারা পরস্পরের সঙ্গে দেখা হলে সৌজন্য প্রকাশ করতে উচ্চারণ করে ‘নি হাও’। যার ভাবার্থ হলো- হ্যালো; যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘তুমি ভালো আছ বা কেমন আছ।’ চীনা ভাষায় সৌজন্য প্রকাশের এই ‘নি হাও’কে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘নি হাও চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী ২০২৫’। এ প্রদর্শনীতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ১০টিরও বেশি হাসপাতাল ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছে।
বনানীর হোটেল সারিনায় গতকাল সকালে শুরু হয়ে এই প্রদর্শনী চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টারের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় চীন আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। জুলাই আন্দোলনে অনেকেই চোখ হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। চীন আমাদের রোবটিক হাত-পা দিয়েছে, যা আহতদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।’
চীন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও উচ্চমানের হাসপাতাল পরিষেবায় বিশ্বজুড়ে পরিচিত উল্লেখ করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে একাধিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে চায় চীন। এর মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে টেকসই, মানবিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে চাই। যার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং রোবটিক চিকিৎসাসহ বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন অধ্যায়।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় সহায়তার অভিজ্ঞতা আমাদের আরও গভীর সম্পর্কের দিকে নিয়ে গেছে। চীনের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসক পাঠানো এবং স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী।
বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কোরবান আলী ও সিইও ডা. মারুফ মোল্লা বলেন, আমরা চীনের উন্নত চিকিৎসাসেবা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রদর্শনীটি শুধু একটি স্বাস্থ্য মেলা নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন দ্বার উন্মোচন।
আয়োজনে চীনের অংশগ্রহণকারী হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠাতে আগ্রহী এবং একাধিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
এ সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানান চীনের শীর্ষস্থানীয় ১০টিরও বেশি হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে হাসপাতাল গড়ার পাশাপাশি তারা চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যার মাধ্যমে চিকিৎসার মানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। এদিকে এক্সপোতে অংশ নেওয়া চীনের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলো রোগীদের জন্য বেশকিছু বিশেষ সুবিধার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ অনলাইন ও অনসাইট কনসালটেশন, দ্রুত মেডিকেল ভিসা প্রসেসিং, আমন্ত্রণপত্র প্রদান, ভাষা অনুবাদ সহায়তা এবং বিমানবন্দর পিকআপ সার্ভিস। সব সেবাই বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সহজে চীনে চিকিৎসার পথ খুলে দিচ্ছে।
প্রদর্শনীতে চীনের ১০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল অংশ নিয়েছে, যারা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অন-সাইট ও অনলাইন কনসালটেশন, ভিসা ইনভাইটেশন লেটার ও প্রসেসিং, অনুবাদক সেবা এবং বিমানবন্দর পিকআপ সুবিধাসহ বিভিন্ন সহায়তার কথা তুলে ধরে। ‘চায়নিজ মেডিকেল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’, ‘চায়না–বাংলাদেশ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডক্টরস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘আমরা নারী’ নামের তিনটি সংগঠনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।