প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড- বিজিএফসিএল এবং চীনের চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড- সিএনপিসির মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার বোর্ড রুমে বিজিএফসিএলের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কোম্পানি সচিব মো. মোজাহার আলী এবং সিসিডিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও লি জিয়াওমিং। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। এ ছাড়াও পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় ভূ-গর্ভস্থ গ্যাস মজুদের সন্ধানে তিতাস-৩১ ডিপ (৫৬০০ মিটার) এবং বাখরাবাদ-১১ ডিপ (৪৩০০ মিটার) নামের দুটি উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রার অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগে নেয় বিজিএফসিএল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারিভাবে বরাদ্দ ৫৫৮.৬০ কোটি টাকা এবং বাকি ২৩৯.৪০ কোটি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থায়ন। প্রকল্পের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। এই প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ২০১১-১২ সালে বাপেক্স পরিচালিত ৩ডি সাইসমিক জরিপের তথ্য, যা ২০১৯-২০ সালে চীনা প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইন. পুনঃমূল্যায়ন করে। সেখানকার ভূগর্ভস্থ তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডের ভুবন ও বরিল ফরমেশনের নির্দিষ্ট স্তরগুলোকে লক্ষ্য করে খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রায় ১৫০০০ পিএসআই চাপ এবং ৩৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার কূপ খনন হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত সিসিডিসি এই কূপ দুটি খননে ব্যয় করবে প্রায় ৪৯.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯৪.২৫ কোটি টাকা)। কূপ খনন সফলভাবে সম্পন্ন হলে, তিতাস-৩১ ডিপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ ডিপ থেকে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাসগ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।