ফিরে দেখা, ২ আগস্ট ২০২৪
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৮ এএম
ফাইল ছবি
কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে গত বছরের ২ আগস্ট দ্রোহযাত্রায় নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এদিন বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এ গণমিছিলে পা মেলান রাজধানীর হাজার হাজার মানুষ। তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানান।
হাজারো বিক্ষোভকারী এ দ্রোহযাত্রায় অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ‘স্টেপ ডাউন হাসিনা’, ‘ছাত্র হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘গুলিতে মরতে পারি, পিছু হটব না’ লেখা প্ল্যাকার্ড। তারা গণগ্রেপ্তার বন্ধ, জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি, কারফিউ প্রত্যাহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এবং তৎকালীন সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই ‘দ্রোহযাত্রা’ শুরুর আগে একটি সমাবেশে বক্তব্য দেন। দ্রোহযাত্রা শেষে শহীদ মিনারে এক সমাবেশে বক্তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ৩ আগস্ট বেলা ৩টায় আরেকটি গণমিছিলের ডাক দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণমিছিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোটাবিরোধীদের সংঘর্ষ হয়। এতে পুনরায় সহিংস হয়ে উঠে পরিস্থিতি।
এদিন হবিগঞ্জ ও খুলনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে এদিন কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হন। হবিগঞ্জে বিক্ষোভ চলকালে সংঘর্ষে নিহত হন এক শ্রমিক। অন্যদিকে খুলনায় আন্দোলনকারীদের হামলায় এক কনস্টেবল মারা যাওয়ার দাবি করে পুলিশ।
এ ছাড়া ঢাকার উত্তরা, সিলেট, খুলনা, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতেও বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হন।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তৎকালীন শাসকদলের কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এদিন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০, আফতাবনগর ও শাহবাগে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। টাঙ্গাইল শহরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার আন্দোলনকারী, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী।
এদিন ‘পোয়েটস অ্যান্ড রাইটারস অ্যাগেইনস্ট কান্ট্রিওয়াইড অ্যারেস্টস অ্যান্ড অপ্রেশন’ ব্যানারে শহরের নগর পরিকল্পনাবিদ, লেখক, কবি ও প্রকাশক এবং ‘প্রতিবাদ মঞ্চ’ ব্যানারে কিছু শিক্ষক ও অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীও রাজধানীতে আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া এদিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬২৬ জন শিক্ষক চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
২ আগস্ট ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা এক বিবৃতিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও অস্থিরতায় শিশুদের ওপর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি বলেন, ইউনিসেফ নিশ্চিত হয়েছে, জুলাই মাসের বিক্ষোভে অন্তত ৩২ জন শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকেই আহত ও আটক হয়েছে। এটি একটি ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি। ইউনিসেফ সব সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায়। ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩২ জন ছিল শিশু। আরও অনেক মানুষ আহত ও আটক হয়েছেন।
এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছাত্রদের দাবির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকার ও ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফায়দা লুটতে অসৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’