প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ২১:১১ পিএম
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে পররাষ্ট্রনীতি সাজাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আলোচনা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে সরকার। আমাদের কূটনীতির সবচেয়ে বড় বাধা হলো ঢাকা। ঢাকা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শুরু এবং শেষ হয়। ঢাকা স্থিতিশীল না থাকলে মিশনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপের অংশ হিসেবে ‘পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষকবৃন্দ।
এম হুমায়ূন কবির বলেন, গত ৫৪ বছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনও সংস্কার হয়নি। পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জড়িত- বিষয়টি তেমন নয়। কেননা এখানে সিদ্ধান্ত নেন সরকার। আমাদের অন্তর্মুখিতা বাইরের পৃথিবীকে বুঝতে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের সম্ভাবনা আমরা বাইরে নিতে পারি না। বাইরের সম্ভাবনাকে আমরা আভ্যন্তরিকভাবে কাজে লাগাতে পারি না।
হুমায়ুন কবির বলেন, আইডেন্টিটি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এই তিনটিতে মানুষের চাহিদা যুক্ত করতে পারলে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ভাল ও শক্তিশালী হবে। আমরা আমাদের ডিফেন্স ও ডিপ্লোম্যাসিকে নজর দেইনি। স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকতে চাইলে এই দুটি জায়গাকে যত্ন নিতে হবে। গত ৫৪ বছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে কেবল দুটি কমিশন হয়েছে।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, টেক্সের টাকা কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে সে ব্যাপারে জনগণের মতামত নিতে হবে। ১৯৯১ ও ৯৬ এবং ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন সংসদে মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। আমরা সংসদকে গ্যাংস্টার বানাতে পারি না। তিনি চীনের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপন করার আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেতে হলে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা ছাড়া বিকল্প নেই। জুলাই বিপ্লবের পর বিদেশের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো প্রকাশে গণদাবিতে পরিণত হয়েছিল কিন্তু সরকার তা করেনি।
মেজর জেনারেল (অবসর) এ এন এম মুনীরুজ্জামান বলেন, বিপ্লবের যেই আকাঙ্ক্ষা ছিল তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিফলিত হয় নাই। ফ্যাসিজম একটা ইকোসিস্টেম। পুনর্গঠন করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে সরাতে হবে। ফরেন পলিসিতে প্রাইভেট সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কেবল আমলা দিয়ে হবে না। আমাদেরকে ক্লাইমেট ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দূতাবাসগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সার্ককে আবার পুনর্জীবিত করতে হবে। হিউমান রাইটস ডিফেন্ডার হতে হবে।