× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যুক্তরাজ্যে গোপনে সম্পদ বিক্রি করছেন হাসিনার ঘনিষ্ঠরা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫ ১৬:৪০ পিএম

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫ ১৬:৪০ পিএম

যুক্তরাজ্যে গোপনে সম্পদ বিক্রি করছেন হাসিনার ঘনিষ্ঠরা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে থাকা তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক রাখা বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার মতো লেনদেনে জড়িয়েছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। এ সময় বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত পরিচালনা করছিল।

দ্য গার্ডিয়ানট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর যৌথ অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের জমি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, গত এক বছরে এমন অন্তত ২০টি সম্পদ-লেনদেনের আবেদন জমা পড়ে, যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত।

প্রতিবেদনটি বলছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রায় এক বছর পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একদিকে দেশের রাজনৈতিক বিভক্তি এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে সংগ্রাম করছে। এই প্রেক্ষাপটে, লন্ডনের নাইটসব্রিজের রাজকীয় টাউনহাউস বা সারের বিলাসবহুল এলাকায় অবস্থিত সম্পত্তি যতই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হোক না কেন, দুর্নীতির অনুসন্ধানে এগুলো এখন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ঢাকায় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, ক্ষমতায় থাকার সময় এই সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠরা রাষ্ট্রীয় প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি চুক্তি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অন্যান্য আর্থিক কাঠামো থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরে এসব অর্থ ব্যবহার করে লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনেন।

২০২৪ সালের মে মাসে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA)—যা অনেকটা ব্রিটিশ ‘এফবিআই’ হিসেবে পরিচিত—শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান এবং ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের নামে থাকা প্রায় ১,৪৬৯ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করে। ওই বছরের কিছু আগেই গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদনে তাদের সম্পদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছিল।

এর মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের NCA সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামেও ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করে। চৌধুরী পরিবার যুক্তরাজ্যে ৩০০টিরও বেশি অ্যাপার্টমেন্টসহ একাধিক বিলাসবহুল বাড়ির মালিক।

এছাড়া গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ তদন্তে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের পতনের পরও কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে একাধিক সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর ও বন্ধক রাখছেন, যা সংশ্লিষ্টতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে। এ ক্ষেত্রে লেনদেনে সহায়তাকারী আইনজীবী ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্কতা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

দুদকের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত তদন্তে আরও দুজন ব্যক্তি জড়িত, যাদের মধ্যে একজন তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী। আনিসুজ্জামান সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রিজেন্টস পার্ক এলাকায় ১৬৩ কোটি টাকার সমমূল্যের একটি জর্জিয়ান টাউনহাউস বিক্রি করেছেন এবং এর পাশাপাশি আরও তিনটি সম্পত্তির বিক্রির আবেদন জমা পড়েছে। আইনজীবীদের দাবি, ওই সম্পত্তি ২০২৩ সালেই বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং আইনত কোনো অনিয়ম হয়নি।

এছাড়া সালমান এফ রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন সম্পত্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরে আরও তিনটি লেনদেনের আবেদন রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে এসব সম্পদ হস্তান্তর বন্ধ করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জব্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যথাযথভাবে তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হতে পারে।

দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন-ও একই আহ্বান জানান, বিশেষ করে বিপ্লব-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই সম্পদ লেনদেন বন্ধ করে জব্দ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে। তিনি মনে করেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা