প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:০৮ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৪:৫৮ পিএম
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সাইফুল্লাহ মানসুর। সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি, জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার এবং নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাসহ ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশ শুরুর অনেক আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
গত বছরের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটি আবারও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর পর দলটির এই প্রথম এত বড় পরিসরে সমাবেশ আয়োজন, যেখানে সারা দেশ থেকে লাখো নেতাকর্মী ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন। সমাবেশস্থলে যোগ দিতে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা সকাল থেকেই জনস্রোতে পরিণত হয়। যানজট পেরিয়ে সমর্থকেরা ধীরে ধীরে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে দেখা গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, এবং স্লোগানমুখর পরিবেশ।
নরসিংদী থেকে আসা কবির হোসাইন বুকের টিশার্টে লেখা ‘গর্ব মোরা সোনার বাংলাদেশ’, হাতে প্রতীকী ‘দাড়ি-পাতলা’, মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি জানান, “সকালে আমরা নরসিংদী সদর থেকে রওনা হয়েছি। শিবিরের পক্ষ থেকে তিনটি বাস এসেছে আমাদের নিয়ে।”
উত্তরা ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা হাজী মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, “আমরা আমাদের সাথীদের নিয়ে এসেছি। কোরআনের আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা দলকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে যাচ্ছি। এখানে কোনো দুর্নীতি নেই, সহিংসতা নেই। অন্য দলগুলোর মতো বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই একে অপরকে সাহায্য করছে—কেউ পানি দিচ্ছে, কেউ খাবার।”
হাতিরঝিল থানা সেক্রেটারি খন্দকার রুহুল আমিন জানান, “আমরা প্রায় ১০ হাজার লোক নিয়ে এসেছি। আরও অনেকে আসছেন। আমরা আশা করছি অন্তত ২০-২২ হাজার লোক এই সমাবেশে অংশ নেবেন। আমাদের শৃঙ্খলা টিম মাঠে কাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও পাচ্ছি।”
সকাল থেকেই ঢাকার ফার্মগেট, শাহবাগ, বাংলামোটর, মৎস্য ভবনসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঢল এবং গণপরিবহন সংকটে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
দলটির দাবি, এই মহাসমাবেশ থেকে ‘সাত দফা’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হবে, যার মধ্যে রয়েছে কোরআনি আইন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক নিপীড়নের অবসান এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার।