× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

কমপ্লিট শাটডাউনে অচলাবস্থা, নিহত ৩১

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৫ ১৬:২০ পিএম

জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের গায়েবানা জানাজা। ফাইল ছবি; সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের গায়েবানা জানাজা। ফাইল ছবি; সংগৃহীত

গত বছরের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেওয়া ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে প্রায় অচল হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২৪ জন, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে দুজন করে এবং রংপুর, সাভার ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হন। যার মধ্যে শিক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত হয় প্রায় দেড় হাজার মানুষ। 

১৮ জুলাই সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির দিনে রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবন এবং মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডেটা সেন্টার ও সেতু ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মিরপুর, মহাখালী, বাড্ডাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। উত্তরা-পূর্ব থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ডিএমপি। দুপুর ১২টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে দেশের অধিকাংশ জেলার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। রাত ৯টার পর থেকে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৮ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। যাত্রাবাড়ী ও কাজলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ রাজধানীর অনেক এলাকার সড়ক অবরোধ করে তারা। 

এদিকে মেট্রো লাইনের নিচে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে ফুটওভারের পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পরে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকার রাজি। শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাকে ও শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ তবে সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘গুলির সঙ্গে কোনো সংলাপ হয় না। এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করার থেকে আমার মৃত্যু শ্রেয়।’

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়ে সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর দায় সরকারেরই। শহীদের রক্তের ওপর কোনো সংলাপ হবে না। সরকারকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে।’ 

এদিন সন্ধ্যায় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত। এদিকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ জুলাই পুলিশের পক্ষ থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা