গোপালগঞ্জে সহিংসতা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৫ ১৬:৪৯ পিএম
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এত বড় ঘটনা ঘটবে, এ ধরনের আগাম কোনো তথ্য হয়তো গোয়েন্দাদের কাছে ছিল।
গতকালের এ পরিস্থিতি নিয়ে আগাম কোনো তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে ছিল কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গোয়েন্দাদের তথ্য ছিল, তবে এতো পরিমাণ যে হবে ওই তথ্য হয়তো ছিল না।’
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সহিংসতায় জড়িতদের নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে, তারা গ্রেপ্তার হবে। কাউকে তো ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শৃঙ্খলা রাখতে পারেনি- এনসিপি নেতাদের এমন অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনিও তো অনেক কিছু বলতে পারেন। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে।’
‘গতকাল যে ঘটনা ঘটছে তা সবাই দেখেছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। সে জন্য সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হবে। এখন ওই জায়গার পরিস্থিতি স্বাভাবিক,’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
গতকাল বুধবার এনসিপি পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে গোপালগঞ্জে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ, হাতবোমা নিক্ষেপ এবং তা প্রতিহতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত ও অনেকেই হতাহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জেলাজুড়ে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হামলা-সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে ১৪৪ ধরা জারি ও পরে সরকারের পক্ষ থেকে রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো গোপালগঞ্জ জেলায় কারফিউ জারি করা হয়।
আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম।