প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার বিধান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে ওইদিন দ্বিতীয় সভা হয়। এর আগে ১৬ জুন প্রথম সভায় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেদিন আটটি অপেক্ষাকৃত সহজে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় সভায় ওই আট সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নতুন করে কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। তবে কিছু সুপারিশ শিগগিরই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে। আর কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পুলিশ-গোয়েন্দাদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থী ও পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিজের ও তার আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা হয়। এর মাধ্যমে অনেক সময় চাকরির সুপারিশ পেয়েও অনেক প্রার্থীকে ‘বিরূপ মন্তব্যের’ কারণে নিয়োগ দেওয়া হয় না। একই কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি পান না। এ নিয়ে তীব্র আপত্তি থাকলেও সেটি বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা কোনো গোয়েন্দা বিভাগের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিল করার সুপারিশ করে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। কারণ হিসেবে কমিশন বলেছে, এ স্তর থেকেই জনপ্রশাসনে রাজনীতিকরণ শুরু হয়। এ ছাড়া লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল ঘোষিত হওয়ার আগে কোনো প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন করা যাবে না। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ বিভাগের কাছে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, সে সম্পর্কে প্রতিবেদন চাইবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদন চাইতে পারে।
এ বিষয়ে সোমবারের সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার বিধান করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সুরক্ষা সেবা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া কমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ ছাড়া আর সব ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বিধান ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে।
আগের আট বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত হলো
গত ১৬ জুনের সভায় অপেক্ষাকৃত সহজে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এসবের অগ্রগতি নিয়েও সোমবারের সভায় আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যান্য কাজ শেষ করে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত নীতিমালা জারির বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া এক মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের গুচ্ছে থাকা (ক্লাস্টার) ওয়েবসাইটগুলোর ইন্টারফেস পরিবর্তনসহ ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। সব সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট বিরতিতে গণশুনানি নিশ্চিত করার বিষয়ে এ-সংক্রান্ত সংশোধিত পরিপত্র ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে জারি করতে হবে।