ফিরে দেখা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩৯ এএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫ ০৯:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের এই দিনে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন ধারার কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। এবার কর্মসূচিতে ছিল রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ঢাকায় একটি গণপদযাত্রার আয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে
১৩ জুলাই সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক
হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জানান, আগামীকাল (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
থেকে গণপদযাত্রা শুরু হবে এবং শেষে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজসহ
রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবে। পাশাপাশি জেলা
পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ করবে।
এদিকে ১২ জুলাই রাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের
গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার চৌধুরী মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন
জমার জন্য ২১ জুলাই সময় নির্ধারণ করেন।
মামলার প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনের অন্যতম মুখ
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাহবাগ থানায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে।
সেখানে পুলিশ বলছে যে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষতি সাধন করেছে। ক্ষতি যদি হয় তাহলে অজ্ঞাতনামা
মামলা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের নামেই মামলা দিতে পারেন।’
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন, তাই আদালতের
নির্দেশ ছাড়া সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। পাশাপাশি বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল
আন্দোলন থেকে ফায়দা লুটতে চাইছে।
এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের দাবিকে
সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ না করে আন্দোলন থেকে সরে আসুন।’ পুলিশের তৎকালীন
অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ জানান, আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করলে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে এদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা
আব্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনকে ভিন্ন
খাতে প্রবাহিত করতে চায়।’
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত মন্তব্য করেন, ‘যেহেতু
বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, তাই এখনই কোনো সরকারি ঘোষণা সংবিধান পরিপন্থি হবে।’
এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা
দিনব্যাপী গণসংযোগ করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবাসিক হল এবং ফেসবুকসহ সামাজিক
মাধ্যমে তারা প্রচার চালান। রাত ৮টার দিকে জাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ৩৮ সদস্যের
একটি নতুন সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে ২৪ জন সমন্বয়ক এবং ১৪ জন সহসমন্বয়ক
হিসেবে দায়িত্ব পান।
এছাড়া ১৩ জুলাই বিকালে রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সামনে শিক্ষার্থীরা রেললাইনে
বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে ঢাকাগামী মধুমতী এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে যায়।