ফিরে দেখা জুলাই
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫ ১৫:৫৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে কয়েক দিনের লাগাতার আন্দোলনের পর ৯ জুলাই ছিল অপেক্ষাকৃত প্রস্তুতিমূলক দিন। কর্মসূচিতে ছিল ছাত্র ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন এবং দেশজুড়ে গণসংযোগ। তবে দিন শেষে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন- ১০ জুলাই সারা দেশে ‘সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেড’ পালন করা হবে।
এদিকে ৯ জুলাই কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তবে ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, যারা আপিল করেছেন, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেউ নন। রাজপথে আন্দোলন এবং আদালতে আপিলÑ দুই মঞ্চেই ৯ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
দিনের শুরুতে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও নগরে চালান ‘গণসংযোগ’। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চলবে। সড়ক ও রেলপথ বাংলা ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায়। সকাল ১০টায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জমায়েত হব। তারপর ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের জন্য শাহবাগ মোড়ে যাব।
তিনি বলেন, নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে নামেননি। এই ইস্যুতে সরকার নিশ্চুপ থাকার কারণে এ ধরনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাই নাই বলেই আমাদের এই আন্দোলন। আমরা কোটা বাতিল চাই না, অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ৫-১০ শতাংশ কোটা রেখে বাকিগুলো রদ করতে হবে।
এই দিন সর্বোচ্চ আদালতের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আপিল শুনানির জন্য ১০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন। আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল সাদী ভূঁইয়া ও উর্দু বিভাগের আহনাফ সাঈদ খান। আদালত তাদের হলফনামা দাখিলের অনুমতি দেন।
দুপুরে আবেদনটি চেম্বার আদালতে উঠলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুনানি করেন। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ১০ জুলাই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
এদিন কোটা আন্দোলন নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘কোটা ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার নেই, এ ইস্যু এখন সর্বোচ্চ আদালতের কাছে। রাজপথে আন্দোলন করে এটার নিরসন হবে না।’ একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
এদিনও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে কর্মসূচি। কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দুপুরে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের শহীদ মিনারে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণসংযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ও দুপুর ১২টার দিকে ৫টি ছাত্রী আবাসিক হলে গণসংযোগ চালান তারা।
এদিকে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়ক আধা ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন তারা।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর ১২টার দিকে কলেজ গেটের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনে রেললাইন অবরোধ করেন। কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
৯ জুলাই বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে একাডেমিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে স্লোগান দেন তারা।
এদিন হবিগঞ্জেও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।