সাংবাদিকদের ওপর হামলা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২২ ১৭:০১ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২ ১৭:০৬ পিএম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাসান মিসবাহ ও জ্যেষ্ঠ ভিডিওগ্রাফার সাজু মিয়া (ফাইল ছবি)
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এসপিএ রিভার সাইট মেডিকেল সেন্টারের মালিক এমএইচ উসমানি ও দেওয়ান মো. আবু জাহিদসহ গ্রেপ্তার চার জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম ফারাহ দিবা ছন্দা এ আদেশ দেন।
এর আগে একই দিন সকালে কামরাঙ্গীচরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি হলেন রাসেল দেওয়ান ও মো. মাসুম।
গত মঙ্গলবার এসপিএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করার অভিযোগের অনুসন্ধানে গিয়ে ওই টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাসান মিসবাহ ও জ্যেষ্ঠ ভিডিওগ্রাফার সাজু মিয়া হামলার শিকার হন। হাসপাতালের মালিক এমএইচ উসমানীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। ক্যামেরা ভাঙচুর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি। প্রায় দুই ঘণ্টা আটকেও রাখা হয় তাদের।
পুলিশ জানায়, দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার সকালে ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন হাসান মিসবাহ। পুলিশ বলছে, হামলায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আহত হাসান মিসবাহ বলেন, ওই হাসপাতালে একজন ভুয়া চিকিৎসক বসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেন। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে আমাকে ও ভিডিওগ্রাফার সাজু ও ড্রাইভারকে মারধর করা হয়।
হাসান মিসবাহ অভিযোগ করেন, “আমাদের ওপর হামলার ঘটনাটি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে আসেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলন হোসেন। তিনি পরিচয় জানতে চাইলে আমরা পরিচয় দিই। এরপর কার্ড চাইলে সাজু ভাই তার কার্ড বের করে দেন। কার্ড হাতে নিয়ে পুলিশ সদস্য মিলন বলেন, ‘তোরা ভুয়া সাংবাদিক।’ একপর্যায়ে উনি কোনো কথা না শুনে চেয়ার থেকে উঠে আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং আমার মুখে আঘাত করেন।”
লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাফর হোসেন বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ করার জন্য এসআই মিলনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো লাইসেন্স নেই ওই প্রতিষ্ঠানের। তাই এটি বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।
প্রবা/এইচকে/জেআই