× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আপত্তি সত্ত্বেও নিয়োগের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫ ১৬:২০ পিএম

আপত্তি সত্ত্বেও নিয়োগের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে

মোহাম্মদ জহিরুল কাইয়ুম বিসিএস ২১ ব্যাচের (কাস্টমস) যুগ্ম সচিব। কাস্টমস ক্যাডার থেকে প্রশাসনে উপসচিব পদে যোগ দেওয়ার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২৪ সালে ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বাংলাদেশ দূতাবাসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে তিনি ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর ১১ মাস ১ দিন ওই পদে ছিলেন। 

২০২৩ সালে যুগ্ম সচিব পদোন্নতি পেয়ে অদ্যাবধি অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তিতে রয়েছেন। এই কর্মকর্তা বিগত সরকারের আমলে দূতাবাসে কাউন্সিলর নিয়োগ পেয়ে সুবিধা পেলেও তিনিই আবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করেছে বলে সরকারের বিভিন্ন মহলে খবর চাউর হয়েছে। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাবশালী দুই উপদেষ্টা সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তাকে নিয়োগ না দিতে জোর আপত্তি করেন। তার পরিবর্তে দলনিরপেক্ষ বা বিগত সরকারের সুবিধা নেননি এমন কর্মকর্তাকে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য খোদ বাণিজ্য উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন। এরপরও তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে এক নম্বরে সেই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সারসংক্ষেপ অনুমোদন পেতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

এ ছাড়াও তালিকায় দুই নম্বরে রাখা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আরেক সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ড. রহিমা খাতুনকে। তিনি ২০২০ সালের ২৫ জুন থেকে ১১ মার্চ ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ছিলেন। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেখানে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন না দিতে একাট্টা, সেখানে দূতাবাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের নিয়োগ দিচ্ছে। এমনটি কার্যকর হলে সরকারের বিভিন্ন মহলের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরলে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ স্বাক্ষরের জন্য তার কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

সূত্রে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভার বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এই পদে বেশকিছু যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রাথী হিসেবে আবেদন করেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৮ মে চূড়ান্তভাবে ছয় যুগ্ম সচিবকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দীন (তৎকালীন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান।

বাণিজ্য উপদেষ্টার কক্ষে প্রার্থীদের অনুষ্ঠিত ওই মৌখিক পরীক্ষায় বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উনয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধূরী। বিগত রাজনৈতিক সরকারগুলোর আমলে বিদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দূতাবাসে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা হরহামেশা ঘটেছে। যারা ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন এমন কর্মকর্তারাই এসব পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে নজির রয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর অতীতের প্রথা পরিবর্তন হয়। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে যেসব মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বা দলনিরপেক্ষ ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন শুরু হয়। যে কারণে বিগত সরকারের আমলে মাঠ প্রশাসনে যারা ডিসি বা বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সেইসব কর্মকর্তা, বিভিন্ন দূতাবাসে বিগত সরকারের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা করা হয়। এমনকি যারা সুবিধাভোগী ছিলেন, তাদেরও তালিকা করা হয়। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তাদের সম্পর্কে তদন্ত করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার পাশপাশি দলনিরপেক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরে পদায়ন শুরু হয়। সুবিধাভোগীরা পুনরায় যাতে সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে গঠিত জনপ্রশাসন সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি থেকে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে বলা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ঐক্য পরিষদ থেকেও এমন আহ্বান জানানো হয়।

ইতোমধ্যে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়কাল ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। এরপরও উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বারোপের কথাকে উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই সুবিধা নিচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক ছিলেন এমন কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ পেতে তৎপর রয়েছেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং অব্যাহত রেখে তারা সফল হচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে নিয়োগ পাচ্ছেন বিগত সরকারের আমলে প্রায় ৫ বছর ধরে ব্রাসেলেসের দূতাবাসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদে চাকরি করা সেই কর্মকর্তা। বিগত সরকারের সুবিধা নেওয়া সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাণিজ্য উপদেষ্টাকে ভুল বুঝিয়ে সুবিধাভোগীকে ইকোনমিক মিনিস্টার নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত করা হয়।

সূত্রগুলো বলছে, সুইজারল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসে ইকোনমিক মিনিস্টিার পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করাই এ উইংয়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিগত সরকারের অনুগত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে দলনিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া অবশ্যক। কারণ তাদের বাণিজ্যিক কূটনৈতিক তৎপরতায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এরপরও অতীত পর্যালোচনা না করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন এমন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সমালোচনার পাশপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চারিত হতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা