ইউএনবি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ইউএনআরসি) গুইন লুইস বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি চরম মেরুকরণ ও সম্ভাব্য অস্থিরতা রোধে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব বিষয়ে দেশের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বুধবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত এক আলোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ না করার সুপারিশের বিষয়ে একজন সাংবাদিক তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পরিস্থিতি দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিবেচনা করা উচিত। সরকারের সিদ্ধান্তকেও দেশের প্রেক্ষাপটের আলোকে দেখা প্রয়োজন। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আবারও বলছি, এটি সরকারেরই সিদ্ধান্ত।’
অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে গুইন লুইস বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কার্যকরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারে দপ্তর তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার, পুলিশ ও নিরাপত্তা, নাগরিক পরিসর, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থাসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশনের মতে এটি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে ও ভোটারদের একটি বড় অংশকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ রাজনীতিতে জড়িত নয়। জাতিসংঘ একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে কাজ করছে। জাতিসংঘের দৃষ্টিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে হলো—সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা।’
গুইন লুইস বলেন, ‘আমাদের জন্য অন্তর্ভুক্তি মানে প্রত্যেক বাংলাদেশির কণ্ঠস্বর থাকা।’
সত্য ও নিরাময় প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ হবে, দেশের জনগণের সঙ্গে শক্তিশালী জাতীয় পরামর্শের মাধ্যমে তাদের মতামত ও ভবিষ্যতের চিন্তাভাবনা শোনা—সেটাই সত্য ও নিরাময় প্রক্রিয়ার সেরা পথ।’
তবে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে এই পরামর্শ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেওয়া উচিত, তা বলা কঠিন। এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত পরামর্শের প্রয়োজন।
তিনি জানান, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে একটি অফিস স্থাপন করতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় থাকা রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক, পুলিশ এবং বিচার বিভাগীয় খাতগুলোতে সহায়তা করবে।
ইউএনআরসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সরকার থেকে জানতে পেরেছি যে, একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। সেটি সইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস খুলতে পারব এবং চলমান প্রক্রিয়াগুলোয় সহায়তা করতে পারব।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গত বছর জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়কার সংঘর্ষ ও পরবর্তী দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের পর থেকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ থেকেছে। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অন্যতম বৃহৎ অংশীদার বাংলাদেশ। হাজার হাজার বাংলাদেশি সাহসী নারী-পুরুষরা বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট ও তহবিল ঘাটতির বিষয়েও কথা বলেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী।
তিনি জানান, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় টেকসই আন্তর্জাতিক সংহতি ও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
রাখাইনে জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুন আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।